সিলেটের জামাই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক বাড়ি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই বাড়িটি আলোচিত। বংশপরম্পরায় এ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন বহু গুণীজন, যা আজও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে চলেছে। প্রায় ১১০ বিঘা জমির ওপর বিশাল এই বাড়ির ভেতরে রয়েছে প্রাচীন দিঘি ‘আবিদ সাগর’। পরিবারের পূর্বপুরুষ আবিদ আলী খানের নামানুসারেই দিঘিটির নামকরণ। এটি বহু পুরোনো এবং এলাকাজুড়ে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে পরিচিত। এই জমির ওপর ১৯৩৩ সালে আসাম প্যাটার্নের দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।
এই বিশাল বাড়ি ও ভূমিসম্পদ সিলেটে থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় উত্তরাধিকারীদের অধিকাংশই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে জামাই তারেক রহমানের আগমনের খবরে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছেন। তার আগমন উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক বাড়ির পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে তৈরি করা হয়েছে পার্কিং ব্যবস্থা, নতুন গেটসহ নানা অবকাঠামো। মঙ্গলবার রাতেও কয়েকশ মানুষ প্রস্তুতি পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
জামাই ও অতিথিদের আপ্যায়নে বুধবার দুপুর থেকেই শুরু হয় রান্নাবান্না। প্রায় ৪০টি ডেকচিতে তেহারি রান্না করেন বাবুর্চিরা। পুরো আয়োজন তদারকি করেন ডা. জোবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলী খান।
আরো পড়ুন , নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রকাশ হলো নির্বাচনি থিম সং
তিনি জানান, বিদেশে অবস্থানকালেও তারেক রহমানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তবে দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
ডা. জোবাইদা রহমানের বাবা প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান সর্বমহলে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি নৌবাহিনীপ্রধান ও মন্ত্রী ছিলেন। ডা. জোবাইদা রহমান ও তারেক রহমানের বিয়ের মধ্য দিয়েই এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আÍীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডা. জোবাইদা রহমানের জন্ম ১৯৭২ সালে সিলেটে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং পরে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
সিলেট সফরের অংশ হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, ২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে একটি দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রথমবারের মতো তারেক রহমান শ্বশুরবাড়িতে যান। দীর্ঘ ২১ বছর পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া।
বিষয় : সিলেট আয়োজন শ্বশুরবাড়ি বিএনপির চেয়ারম্যান

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের জামাই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক বাড়ি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই বাড়িটি আলোচিত। বংশপরম্পরায় এ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন বহু গুণীজন, যা আজও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে চলেছে। প্রায় ১১০ বিঘা জমির ওপর বিশাল এই বাড়ির ভেতরে রয়েছে প্রাচীন দিঘি ‘আবিদ সাগর’। পরিবারের পূর্বপুরুষ আবিদ আলী খানের নামানুসারেই দিঘিটির নামকরণ। এটি বহু পুরোনো এবং এলাকাজুড়ে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে পরিচিত। এই জমির ওপর ১৯৩৩ সালে আসাম প্যাটার্নের দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।
এই বিশাল বাড়ি ও ভূমিসম্পদ সিলেটে থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় উত্তরাধিকারীদের অধিকাংশই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে জামাই তারেক রহমানের আগমনের খবরে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছেন। তার আগমন উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক বাড়ির পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে তৈরি করা হয়েছে পার্কিং ব্যবস্থা, নতুন গেটসহ নানা অবকাঠামো। মঙ্গলবার রাতেও কয়েকশ মানুষ প্রস্তুতি পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
জামাই ও অতিথিদের আপ্যায়নে বুধবার দুপুর থেকেই শুরু হয় রান্নাবান্না। প্রায় ৪০টি ডেকচিতে তেহারি রান্না করেন বাবুর্চিরা। পুরো আয়োজন তদারকি করেন ডা. জোবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলী খান।
আরো পড়ুন , নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রকাশ হলো নির্বাচনি থিম সং
তিনি জানান, বিদেশে অবস্থানকালেও তারেক রহমানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তবে দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
ডা. জোবাইদা রহমানের বাবা প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান সর্বমহলে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি নৌবাহিনীপ্রধান ও মন্ত্রী ছিলেন। ডা. জোবাইদা রহমান ও তারেক রহমানের বিয়ের মধ্য দিয়েই এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আÍীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডা. জোবাইদা রহমানের জন্ম ১৯৭২ সালে সিলেটে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং পরে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
সিলেট সফরের অংশ হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, ২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে একটি দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রথমবারের মতো তারেক রহমান শ্বশুরবাড়িতে যান। দীর্ঘ ২১ বছর পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন