দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রিটার্ন না দিলে কাটা যেতে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ, সময় বাকি ১১ দিন

রিটার্ন না দিলে কাটা যেতে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ, সময় বাকি ১১ দিন
রিটার্ন না দিলে কাটা যেতে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় দ্বিতীয় দফায় যে সময় বাড়িয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর, সে সময় শেষ হতে বাকি আর ১১ দিন। এনবিআর থেকে বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন বা বিবরণী দাখিল না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মত জরুরি পরিষেবা কাটা যেতে পারে। এই ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের আছে।

আয়কর আইনেই কর কর্মকর্তাদের এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; ফলে আইন ভঙ্গ হলে তারা যে কোনো পরিষেবা সংযোগ কেটে দিতে পারেন। এছাড়া জরিমানা, অতিরিক্ত কর পরিশোধসহ আরও কিছু মাশুল গুণতে হবে করতাদাকে। চলতি করবর্ষের জন্য এনবিআর থেকে প্রকাশিত আয়কর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনে যা যা আছে

ধারা ২৬৬ অনুসারে জরিমানা; এই আইনে বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যাতিত রিটার্ন দাখিল না করলে তার (করদাতা) সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ জরিমানা করা যাবে। তবে তা একহাজার টাকার কম হবে না। এছাড়া রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করতে পারবে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার। তবে এখানে দুটি শর্ত রয়েছে এমন- আগে যার কর কখনোই নির্ধারণ করা হয়নি, তার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং আগে কর নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকার মধ্যে যা অধিক হবে, তাই জরিমানা হিসেবে ধার্য করা হবে। 

১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন; এর মাধ্যমে তিনি (করদাতা) বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে যে কর অব্যাহতি পাওয়ার কথা ছিল তা কমে আসবে শাস্তিস্বরূপ। মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ; এর আওতায় জরিমানার বাইরেও বাড়তি করের খড়্গ ঝুলবে করদাতার উপর। ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া; এর আওতায় কর কর্মকর্তারা যে কোনো পরিষেবা কেটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এছাড়া বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে জটিলতা হতে পারে রিটার্ন দাখিল করা না হলে। চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে। এই সময় ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে তা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। পরে আরেক দফায় সময় বাড়ায় এনবিআর।

আরও পড়ুন, নির্বাচন ও রমজানে এলপিজি সংকট এড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ

চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে। চাইলে ই-রিটার্নও দাখিল করতে পারবেন তারা।  করদাতার তরফে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এবছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশির ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য দিয়ে বিদেশে বসেই ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। চলতি করবর্ষে ৩১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন; বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন।

বিষয় : আয়কর রিটার্ন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


রিটার্ন না দিলে কাটা যেতে পারে গ্যাস-বিদ্যুৎ, সময় বাকি ১১ দিন

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় দ্বিতীয় দফায় যে সময় বাড়িয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর, সে সময় শেষ হতে বাকি আর ১১ দিন। এনবিআর থেকে বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন বা বিবরণী দাখিল না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মত জরুরি পরিষেবা কাটা যেতে পারে। এই ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের আছে।

আয়কর আইনেই কর কর্মকর্তাদের এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; ফলে আইন ভঙ্গ হলে তারা যে কোনো পরিষেবা সংযোগ কেটে দিতে পারেন। এছাড়া জরিমানা, অতিরিক্ত কর পরিশোধসহ আরও কিছু মাশুল গুণতে হবে করতাদাকে। চলতি করবর্ষের জন্য এনবিআর থেকে প্রকাশিত আয়কর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনে যা যা আছে

ধারা ২৬৬ অনুসারে জরিমানা; এই আইনে বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যাতিত রিটার্ন দাখিল না করলে তার (করদাতা) সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ জরিমানা করা যাবে। তবে তা একহাজার টাকার কম হবে না। এছাড়া রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করতে পারবে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার। তবে এখানে দুটি শর্ত রয়েছে এমন- আগে যার কর কখনোই নির্ধারণ করা হয়নি, তার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং আগে কর নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকার মধ্যে যা অধিক হবে, তাই জরিমানা হিসেবে ধার্য করা হবে। 

১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন; এর মাধ্যমে তিনি (করদাতা) বিভিন্ন বিনিয়োগের বিপরীতে যে কর অব্যাহতি পাওয়ার কথা ছিল তা কমে আসবে শাস্তিস্বরূপ। মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ; এর আওতায় জরিমানার বাইরেও বাড়তি করের খড়্গ ঝুলবে করদাতার উপর। ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া; এর আওতায় কর কর্মকর্তারা যে কোনো পরিষেবা কেটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এছাড়া বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে জটিলতা হতে পারে রিটার্ন দাখিল করা না হলে। চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে। এই সময় ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে তা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। পরে আরেক দফায় সময় বাড়ায় এনবিআর।

আরও পড়ুন, নির্বাচন ও রমজানে এলপিজি সংকট এড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ

চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে এ বিধান শিথিল রাখা হয়েছে। চাইলে ই-রিটার্নও দাখিল করতে পারবেন তারা।  করদাতার তরফে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এবছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশির ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য দিয়ে বিদেশে বসেই ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। চলতি করবর্ষে ৩১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন; বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত