দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ওলিও হোটেল বোমা মামলায় ১১ আসামির সবাই খালাস

ওলিও হোটেল বোমা মামলায় ১১ আসামির সবাই খালাস
ওলিও হোটেল বোমা মামলায় ১১ আসামির সবাই খালাস

আট বছর আগে ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় ১১ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম এ আদেশ দেন। আজ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ মামলার আসামিদের মধ্যে পাঁচজনের আইনজীবী ছিলেন। সুব্রত দেবনাথ বলেন, ‘২০১৭ সালে মামলা দায়ের করার পর অভিযোগ গঠন হয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি। এই দীর্ঘ সময়ে মামলার বাদী শুধু সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় দীর্ঘদিন সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিষয়টি আদালতকে জানাই। পরে গত ৫ জানুয়ারি এক আদেশে আদালত এ মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।’

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তাজরিম খানম, নও মুসলিম আবদুল্লাহ, নাজমুল হাসান মামুন, আবদুল্লাহ আইচান, মো. কামরুল ইসলাম, আকরাম হোসেন খান, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা, আবুল কাশেম ফকির, হুমায়রা জাকির নাবিলা। মামলার অভিযোগপত্রে তাঁদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আদেশে বিচারক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২৬৫ (এইচ) ধারায় একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। মামলার শুনানি করেন যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অহেতুক মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও নিবেদন করেন, তৎকালীন আইজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক) শহীদুল হক তাঁর লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারপ্রধান তাঁকে এই মর্মে বলেন, (ধানমন্ডির) ৩২–এর এত কাছে ঘটনাটি না ঘটালেও পারতা। উল্লেখ্য, এই আলোচিত আইজিপি শহীদুল হক, সরকার পরিবর্তনের পরে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের সম্মুখীন এবং তিনি জেলহাজতে আছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে মামলাটির সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকে যায়।’

আদেশে আরও বলা হয়, নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, সরকারবিরোধী কর্মসূচি আহ্বান ও পালনে ক্ষমতাসীনেরা বাধা দেয় এবং মামলা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। আলোচ্য মামলার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে বলে আদালত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং সার্বিক বিবেচনায় মামলা হতে ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

আরও পড়ুন, মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলাকারীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। দেশব্যাপী শোক পালনের দিনে রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদারের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ১৫ আগস্ট রাতে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘেরাও করে। হোটেলের ৩০১ নম্বর কক্ষে অবস্থানকারী যুবককে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও সে সাড়া দেয়নি। ভেতর থেকে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দিতে থাকে। ১৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে সোয়াট সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করলে সাইফুল ইসলাম (অভিযুক্ত জঙ্গি) নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় হোটেলের দেয়াল ও রেলিং ধসে রাস্তায় পড়ে। মূল হামলাকারী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলার ঘটনায় ১৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ ইমরুল সাহেদ। দুই বছর তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিষয় : বিস্ফোরণ আসামি খালাস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ওলিও হোটেল বোমা মামলায় ১১ আসামির সবাই খালাস

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আট বছর আগে ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় ১১ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম এ আদেশ দেন। আজ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ মামলার আসামিদের মধ্যে পাঁচজনের আইনজীবী ছিলেন। সুব্রত দেবনাথ বলেন, ‘২০১৭ সালে মামলা দায়ের করার পর অভিযোগ গঠন হয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি। এই দীর্ঘ সময়ে মামলার বাদী শুধু সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় দীর্ঘদিন সাক্ষী আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিষয়টি আদালতকে জানাই। পরে গত ৫ জানুয়ারি এক আদেশে আদালত এ মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।’

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তাজরিম খানম, নও মুসলিম আবদুল্লাহ, নাজমুল হাসান মামুন, আবদুল্লাহ আইচান, মো. কামরুল ইসলাম, আকরাম হোসেন খান, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা, আবুল কাশেম ফকির, হুমায়রা জাকির নাবিলা। মামলার অভিযোগপত্রে তাঁদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আদেশে বিচারক বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২৬৫ (এইচ) ধারায় একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। মামলার শুনানি করেন যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অহেতুক মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও নিবেদন করেন, তৎকালীন আইজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক) শহীদুল হক তাঁর লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারপ্রধান তাঁকে এই মর্মে বলেন, (ধানমন্ডির) ৩২–এর এত কাছে ঘটনাটি না ঘটালেও পারতা। উল্লেখ্য, এই আলোচিত আইজিপি শহীদুল হক, সরকার পরিবর্তনের পরে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের সম্মুখীন এবং তিনি জেলহাজতে আছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে মামলাটির সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকে যায়।’

আদেশে আরও বলা হয়, নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, সরকারবিরোধী কর্মসূচি আহ্বান ও পালনে ক্ষমতাসীনেরা বাধা দেয় এবং মামলা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। আলোচ্য মামলার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে বলে আদালত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং সার্বিক বিবেচনায় মামলা হতে ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

আরও পড়ুন, মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলাকারীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। দেশব্যাপী শোক পালনের দিনে রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদারের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ১৫ আগস্ট রাতে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘেরাও করে। হোটেলের ৩০১ নম্বর কক্ষে অবস্থানকারী যুবককে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও সে সাড়া দেয়নি। ভেতর থেকে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দিতে থাকে। ১৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে সোয়াট সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করলে সাইফুল ইসলাম (অভিযুক্ত জঙ্গি) নিজের কাছে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় হোটেলের দেয়াল ও রেলিং ধসে রাস্তায় পড়ে। মূল হামলাকারী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলার ঘটনায় ১৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ ইমরুল সাহেদ। দুই বছর তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত