মুগদা পেট্রল পাম্প সংলগ্ন হোটেল গ্রীন সিলেট ঘিরে চাঞ্চল্য
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মুগদা। দিনরাত মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য আর নগর জীবনের কোলাহলে মুখর এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একাধিক অভিযোগভিত্তিক আবাসিক হোটেল ও অসাধু সিন্ডিকেট। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মুগদা পেট্রল পাম্প সংলগ্ন “হোটেল গ্রীন সিলেট” নামের একটি আবাসিক হোটেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করলেও হোটেলটির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে সমাজবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নারী সিন্ডিকেট এবং মাদক কারবারিদের অবাধ বিচরণ।আরও পড়ুন, আদমদীঘিতে মহিলা সহ গ্রেপ্তার ৪, গাজা উদ্ধারএলাকাবাসী, ভুক্তভোগী এবং একাধিক সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগেই নারীলিডে চক্রকে কেন্দ্র করে মুগদা থানায় একটি মামলা হওয়ার পরও থেমে নেই এসব অপকর্ম। বরং অভিযোগ উঠেছে, হোটলে মালিক “কবির” নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পুরো সিন্ডিকেট। স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনের চেয়ে রাত বাড়লেই হোটেলটির সামনে বাড়তে থাকে রহস্যজনক আনাগোনা। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের জেলা থেকে আনা নারীদের ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি মাদক সেবন ও বেচাকেনার জন্যও হোটেলটি নিরাপদ স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।একাধিক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাত গভীর হলে হোটেলের আশপাশের পরিবেশ বদলে যায়। অনেক সময় মাতাল ও সন্দেহজনক লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে পরিবার নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই তো যেকোনো অপরাধ করার অনুমতি পাওয়া যায় না। প্রশাসনের চোখের সামনে যদি এসব চলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি নারী চক্রকে কেন্দ্র করে মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনার পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মামলার আড়ালেই চলছে নতুন কৌশলে পুরনো ব্যবসা।আরও পড়ুন, মহেশপুরে ভাতিজার ষড়যন্ত্রে ফুফুর লোনের ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, আটক ৩অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিতে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। ফলে ভুক্তভোগী কিংবা স্থানীয়রা অনেক সময় প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। সাংবাদিকদের কাছে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, হোটেলটির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকা “কবির” নামের ব্যক্তি ম্যানেজার রেখে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে নারী দালাল, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির সম্বন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অনেক সময় কম বয়সী তরুণদেরও বিভিন্ন প্রলোভনে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় এসব সিন্ডিকেট বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাদের দাবি, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে দায়সারা ব্যবস্থা নিলে হবে না; বরং স্থায়ী নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। মাদক, দেহব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এসব স্থানকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অনিয়মের কথা উঠলেও রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির বলে বারবার অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে চলছে এসব কর্মকাণ্ড?আরও পড়ুন, মহেশপুর কৃষি অফিসের উদ্যোগে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিতসচেতন মহলের মতে, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোরও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি আবাসিক হোটেল যদি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মুগদা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। রাজধানীর বুকে যদি ট্রেড লাইসেন্সের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, তাহলে তা শুধু একটি এলাকার জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই ভয়ংকর বার্তা বহন করে। তাই সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, আর কতদিন এভাবে চলবে অপরাধের নিরাপদ আস্তানা? (চলবে)