রাজধানী ঢাকার শ্যামলী, উত্তরা এবং পার্শ্ববর্তী গাজীপুর এলাকায় আক্তার নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ আবাসিক হোটেল বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হোটেলকে ঘিরে নারী সিন্ডিকেট, মাদক বাণিজ্য এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ট প্লাজা’র আড়ালে নারী সিন্ডিকেটের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আক্তার একসময় সাধারণ হোটেল বয় হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি নামে-বেনামে একাধিক আবাসিক হোটেলের মালিক বনে গেছেন। দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে তিনি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন এবং গড়ে তোলেন একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আদাবর থানাধীন ‘হোটেল প্যারেড’সহ উত্তরা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আক্তারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশিরভাগই বৈধ কাগজপত্রবিহীন অথবা অন্য নামে নিবন্ধিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আরো পড়ুন: যাত্রাবাড়িতে নারী ও মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন
একাধিক সূত্র জানায়, এসব হোটেল বাহ্যিকভাবে সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হলেও ভেতরে চলছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে নারী সরবরাহ, মাদক লেনদেন এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ লেনদেন এখানে নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আক্তারের এই হোটেলগুলোকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নারী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। গ্রামাঞ্চল থেকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের রাজধানীতে এনে এসব হোটেলে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করা হয়।
এছাড়া, এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় রয়েছে একটি দালাল চক্র, যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সংগ্রহ করে এনে হোটেলগুলোতে সরবরাহ করে। পেটের দায়ে জড়িয়ে পড়া এসব দালাল নিজেরাও পরে নির্যাতনের শিকার হন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, প্রথমে কাজের কথা বলে নিয়ে আসে। পরে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়। কেউ বের হতে চাইলে মারধরও করা হয়।
আরো পড়ুন: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান, মেলা ও বিলবোর্ড বন্ধের নির্দেশ,জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি উত্তরার একটি হোটেলে স্টাফদের ওপর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক্জ্ন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এসব হোটেলে কর্মরতদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বেতন বকেয়া, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কিংবা নির্দেশ অমান্য করলেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তরা থানার একটি সূত্র জানায়, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় হোটেলটির ভেতর থেকে বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই মূল হোতা ধরা পড়বে না। তারা দাবি করছেন, আক্তার এবং তার সিন্ডিকেটের মূল কাঠামো ভেঙে না দিলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না। এতদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কেন প্রশাসনের নজরে আসেনি এ প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব হোটেল ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, সবাই জানে এখানে কী হয়। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। বললে সমস্যায় পড়তে হয়।
আরো পড়ুন: স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু সংসদ অধিবেশন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ হোটেল ও সিন্ডিকেট সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি শুধু অপরাধ বাড়াচ্ছে না, বরং তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে না পারলে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়বে। এর সঙ্গে জড়িত থাকে মাদক, মানবপাচারসহ নানা অপরাধ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আক্তার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ হোটেল বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে সাময়িক ব্যবস্থা নিলে হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, সমাজের জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে মোবাইল কোর্টে অনিয়ম ও চাঁদাবাজি
এবিষয়ে আক্তার বলেন, ভাই আমি পুরানো ব্যবসায়ী। আমি এসব ব্যব্সা করি ঠিকই তবে প্রশাসনের সাথে আলাপ চারিতা এবং তাদের ম্যানেজ করেই আমার এসব ব্যবসা।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকার শ্যামলী, উত্তরা এবং পার্শ্ববর্তী গাজীপুর এলাকায় আক্তার নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ আবাসিক হোটেল বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হোটেলকে ঘিরে নারী সিন্ডিকেট, মাদক বাণিজ্য এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ট প্লাজা’র আড়ালে নারী সিন্ডিকেটের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আক্তার একসময় সাধারণ হোটেল বয় হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি নামে-বেনামে একাধিক আবাসিক হোটেলের মালিক বনে গেছেন। দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে তিনি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন এবং গড়ে তোলেন একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আদাবর থানাধীন ‘হোটেল প্যারেড’সহ উত্তরা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আক্তারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের বেশিরভাগই বৈধ কাগজপত্রবিহীন অথবা অন্য নামে নিবন্ধিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আরো পড়ুন: যাত্রাবাড়িতে নারী ও মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন
একাধিক সূত্র জানায়, এসব হোটেল বাহ্যিকভাবে সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হলেও ভেতরে চলছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে নারী সরবরাহ, মাদক লেনদেন এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ লেনদেন এখানে নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আক্তারের এই হোটেলগুলোকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নারী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। গ্রামাঞ্চল থেকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের রাজধানীতে এনে এসব হোটেলে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করা হয়।
এছাড়া, এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় রয়েছে একটি দালাল চক্র, যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সংগ্রহ করে এনে হোটেলগুলোতে সরবরাহ করে। পেটের দায়ে জড়িয়ে পড়া এসব দালাল নিজেরাও পরে নির্যাতনের শিকার হন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, প্রথমে কাজের কথা বলে নিয়ে আসে। পরে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়। কেউ বের হতে চাইলে মারধরও করা হয়।
আরো পড়ুন: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান, মেলা ও বিলবোর্ড বন্ধের নির্দেশ,জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি উত্তরার একটি হোটেলে স্টাফদের ওপর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক্জ্ন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এসব হোটেলে কর্মরতদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বেতন বকেয়া, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কিংবা নির্দেশ অমান্য করলেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তরা থানার একটি সূত্র জানায়, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় হোটেলটির ভেতর থেকে বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই মূল হোতা ধরা পড়বে না। তারা দাবি করছেন, আক্তার এবং তার সিন্ডিকেটের মূল কাঠামো ভেঙে না দিলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না। এতদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কেন প্রশাসনের নজরে আসেনি এ প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব হোটেল ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, সবাই জানে এখানে কী হয়। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। বললে সমস্যায় পড়তে হয়।
আরো পড়ুন: স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু সংসদ অধিবেশন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ হোটেল ও সিন্ডিকেট সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি শুধু অপরাধ বাড়াচ্ছে না, বরং তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে না পারলে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়বে। এর সঙ্গে জড়িত থাকে মাদক, মানবপাচারসহ নানা অপরাধ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আক্তার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ হোটেল বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে সাময়িক ব্যবস্থা নিলে হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, সমাজের জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে মোবাইল কোর্টে অনিয়ম ও চাঁদাবাজি
এবিষয়ে আক্তার বলেন, ভাই আমি পুরানো ব্যবসায়ী। আমি এসব ব্যব্সা করি ঠিকই তবে প্রশাসনের সাথে আলাপ চারিতা এবং তাদের ম্যানেজ করেই আমার এসব ব্যবসা।

আপনার মতামত লিখুন