রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক সায়দাবাদ থেকে টঙ্গী রোড যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে সেই গুরুত্বপূর্ণ রুট এখন এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে| “মোবাইল কোর্ট” পরিচালনার নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাস মালিক, চালক এবং এমনকি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদেরও জিম্মি করে রেখেছে| অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে এই সংগঠিত চক্র|
স্থানীয় পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেটি পরিণত হয়েছে অর্থ আদায়ের এক অবৈধ প্রক্রিয়ায়| অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি আগে থেকেই রুটে অবস্থান নেয় এবং কোন গাড়ি কখন আটকানো হবে, কত টাকা নেওয়া হবে এসব নির্ধারণ করে দেয়| ফলে প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে|
আরো পড়ুন: নিমসার বাজারে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান
বিশেষ করে নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড ও খিলক্ষেত এলাকায় এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে| স্থানীয় সূত্র বলছে, মুষ্টিমেয় কিছু ধন্ধাবাজ ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে| তাদের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে পুরো অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম| অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই নির্দিষ্ট যানবাহনের মালিকদের কাছে বার্তা পৌঁছে যায় “সমঝোতা” না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
একজন বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা নিয়ম মেনেই গাড়ি চালাতে চাই| কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অযথা গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে| পরে পরিচিত লোকের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কম টাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়| এটা তো সরাসরি চাঁদাবাজি|
আরো পড়ুন: পার্বত্য সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় লীনা তৃণমূলে প্রত্যাশার জোয়ার
শুধু পরিবহন মালিক শ্রমিকই নয়, এই চক্রের কারণে চাপে পড়েছেন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও| একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও পেশকারদের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়| কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ, কখনো বা সিন্ডিকেটের সদস্যদের সরাসরি হস্তক্ষেপে অনেক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে|
একজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা| এটি যদি কোনোভাবে অসাধু ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে| এর ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়|
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং তাদের সহযোগীদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে| তারা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং প্রতিদিনের আদায় করা টাকার একটি অংশ ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়| অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারীও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত|
আরো পড়ুন: গাজীপুরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন
এদিকে, পরিবহন খাতে এর প্রভাবও পড়ছে স্পষ্টভাবে| অতিরিক্ত অর্থের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক মালিক ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর| এতে একদিকে যেমন পরিবহন খাত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন| সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি| তাদের মতে, মোবাইল কোর্টের মতো একটি কার্যকর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে|
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক ম্যাজিস্ট্রেট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করতে চাই| কিন্তু মাঠ পর্যায়ে নানা ধরনের চাপ ও প্রভাব থাকে| এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে হলে উচ্চপর্যায়ের নজরদারি ও সময় প্রয়োজন| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে| “যদি কোনো সিন্ডিকেট মোবাইল কোর্টের নামে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন তিনি|
আরো পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে বিজিবি অভিযানে আটক ১১ উদ্ধার ভারতীয় পাসপোর্ট ও রুপি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হলে শুধু অভিযান নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন| এর মধ্যে থাকতে হবে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের কঠোর নজরদারি| সব মিলিয়ে, সায়দাবাদুটঙ্গী রোডের মোবাইল কোর্ট ঘিরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখন জনস্বার্থের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে| দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে| তবে এবিষয়ে সিন্ডিকেটের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি|

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক সায়দাবাদ থেকে টঙ্গী রোড যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে সেই গুরুত্বপূর্ণ রুট এখন এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে| “মোবাইল কোর্ট” পরিচালনার নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাস মালিক, চালক এবং এমনকি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদেরও জিম্মি করে রেখেছে| অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে এই সংগঠিত চক্র|
স্থানীয় পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেটি পরিণত হয়েছে অর্থ আদায়ের এক অবৈধ প্রক্রিয়ায়| অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি আগে থেকেই রুটে অবস্থান নেয় এবং কোন গাড়ি কখন আটকানো হবে, কত টাকা নেওয়া হবে এসব নির্ধারণ করে দেয়| ফলে প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে|
আরো পড়ুন: নিমসার বাজারে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান
বিশেষ করে নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড ও খিলক্ষেত এলাকায় এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে| স্থানীয় সূত্র বলছে, মুষ্টিমেয় কিছু ধন্ধাবাজ ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে| তাদের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে পুরো অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম| অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই নির্দিষ্ট যানবাহনের মালিকদের কাছে বার্তা পৌঁছে যায় “সমঝোতা” না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
একজন বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা নিয়ম মেনেই গাড়ি চালাতে চাই| কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অযথা গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে| পরে পরিচিত লোকের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কম টাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়| এটা তো সরাসরি চাঁদাবাজি|
আরো পড়ুন: পার্বত্য সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় লীনা তৃণমূলে প্রত্যাশার জোয়ার
শুধু পরিবহন মালিক শ্রমিকই নয়, এই চক্রের কারণে চাপে পড়েছেন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও| একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও পেশকারদের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়| কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ, কখনো বা সিন্ডিকেটের সদস্যদের সরাসরি হস্তক্ষেপে অনেক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে|
একজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা| এটি যদি কোনোভাবে অসাধু ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে| এর ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়|
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং তাদের সহযোগীদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে| তারা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং প্রতিদিনের আদায় করা টাকার একটি অংশ ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়| অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারীও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত|
আরো পড়ুন: গাজীপুরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন
এদিকে, পরিবহন খাতে এর প্রভাবও পড়ছে স্পষ্টভাবে| অতিরিক্ত অর্থের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক মালিক ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর| এতে একদিকে যেমন পরিবহন খাত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন| সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি| তাদের মতে, মোবাইল কোর্টের মতো একটি কার্যকর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে|
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক ম্যাজিস্ট্রেট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করতে চাই| কিন্তু মাঠ পর্যায়ে নানা ধরনের চাপ ও প্রভাব থাকে| এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে হলে উচ্চপর্যায়ের নজরদারি ও সময় প্রয়োজন| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে| “যদি কোনো সিন্ডিকেট মোবাইল কোর্টের নামে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন তিনি|
আরো পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে বিজিবি অভিযানে আটক ১১ উদ্ধার ভারতীয় পাসপোর্ট ও রুপি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হলে শুধু অভিযান নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন| এর মধ্যে থাকতে হবে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের কঠোর নজরদারি| সব মিলিয়ে, সায়দাবাদুটঙ্গী রোডের মোবাইল কোর্ট ঘিরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখন জনস্বার্থের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে| দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে| তবে এবিষয়ে সিন্ডিকেটের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি|

আপনার মতামত লিখুন