দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

মিথ্যা মামলায় ১৭ বছরের জুলাই যোদ্ধা সুরভী কারাগারে

মিথ্যা মামলায় ১৭ বছরের জুলাই যোদ্ধা সুরভী কারাগারে
মিথ্যা মামলায় ১৭ বছরের জুলাই যোদ্ধা সুরভী কারাগারে

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কিশোরী যোদ্ধা সুরভীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—একজন ১৭ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে কীভাবে আদালত রিমান্ডে দিতে পারে? এই সিদ্ধান্ত কি বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

সুরভী একজন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে। গোপন সূত্রের বরাতে শোনা যাচ্ছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান এই মামলার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন—যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি রাখে।

আইন কী বলে: ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর রিমান্ড কি বৈধ?

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে যে কেউ শিশু” হিসেবে গণ্য।

শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী— কোনো শিশুকে সাধারণ ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় থানা হাজত বা রিমান্ডে নেওয়া নিষিদ্ধ। শিশুদের ক্ষেত্রে তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার প্রক্রিয়া শিশু আদালতের মাধ্যমে এবং শিশু-বান্ধব পরিবেশে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শিশুকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে— আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।” একজন ১৭ বছরের কিশোরীকে রিমান্ডে নেওয়া মানে তাকে জেল হাজতের পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা—যা শিশু আইন ও সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

আরো পড়ুন, নরসিংদীতে সাতদিন ব্যাপী আন্ত:কলেজ খেলাধুলা উদ্বোধন

মানবাধিকার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক মামলার বিষয় নয়—এটি শিশু অধিকার, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একজন কিশোরীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদেরও লঙ্ঘন।

প্রশ্ন এখন একটাই

একজন ১৭ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি কে দিল?

শিশু আইন প্রয়োগ হলো না কেন?

রাজনৈতিক পরিচয় কি আইন ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে?

নাকি বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত জুলাই যোদ্ধা সুরভীর কারাবাস শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়—এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের জন্য একটি ভয়ংকর নজির হয়ে থাকবে।

বিষয় : গ্রেপ্তার সুরভী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


মিথ্যা মামলায় ১৭ বছরের জুলাই যোদ্ধা সুরভী কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কিশোরী যোদ্ধা সুরভীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—একজন ১৭ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে কীভাবে আদালত রিমান্ডে দিতে পারে? এই সিদ্ধান্ত কি বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

সুরভী একজন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে। গোপন সূত্রের বরাতে শোনা যাচ্ছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান এই মামলার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন—যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি রাখে।

আইন কী বলে: ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর রিমান্ড কি বৈধ?

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে যে কেউ শিশু” হিসেবে গণ্য।

শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী— কোনো শিশুকে সাধারণ ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় থানা হাজত বা রিমান্ডে নেওয়া নিষিদ্ধ। শিশুদের ক্ষেত্রে তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার প্রক্রিয়া শিশু আদালতের মাধ্যমে এবং শিশু-বান্ধব পরিবেশে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শিশুকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে— আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।” একজন ১৭ বছরের কিশোরীকে রিমান্ডে নেওয়া মানে তাকে জেল হাজতের পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা—যা শিশু আইন ও সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

আরো পড়ুন, নরসিংদীতে সাতদিন ব্যাপী আন্ত:কলেজ খেলাধুলা উদ্বোধন

মানবাধিকার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক মামলার বিষয় নয়—এটি শিশু অধিকার, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একজন কিশোরীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদেরও লঙ্ঘন।

প্রশ্ন এখন একটাই

একজন ১৭ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি কে দিল?

শিশু আইন প্রয়োগ হলো না কেন?

রাজনৈতিক পরিচয় কি আইন ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে?

নাকি বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত জুলাই যোদ্ধা সুরভীর কারাবাস শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়—এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের জন্য একটি ভয়ংকর নজির হয়ে থাকবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত