দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো ৩৫ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার ৩ মাস ২৭ দিন পর ১০টি দানবাক্স ও ৩টি ট্রাংক থেকে মিললো ৩৫ বস্তা টাকা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে খোলা হয় দানবাক্সগুলো। এরপর বস্তায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। গণনা করতে দ্বিতীয় তলায় ঢেলে দেওয়া হয় বস্তা ভর্তি টাকা। এদিন সকাল ৯টায় শুরু হয় গণনার আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে সারাদিন ধরে চলতে থাকে হিসাবের ব্যস্ততা। 

সন্ধ্যার আলোয় মিলবে টাকার চূড়ান্ত হিসাব। এসময় বস্তা ভর্তি টাকা গুনতে ৩৫০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ২০ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, ১০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন, ৫ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একসঙ্গে বসেছেন মানুষের দানের বিশ্বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করতে। এর আগে, গত ৩০ আগস্ট যখন দানবাক্স খোলা হয়েছিল, তখন ১৩টি সিন্দুক থেকে মিলেছিল রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে প্রায় ১০৩ কোটি টাকা। সংখ্যাগুলো বড় হলেও, বিশ্বাসের পরিমাপ তার চেয়েও বড়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাগলা মসজিদ এখন অনলাইনেও পৌঁছে গেছে মানুষের হাতে। 

আরও পড়ুন, কক্সবাজার সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ১ জন নিহত

গত ৪ জুলাই চালু হয়েছে পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অফিসিয়াল অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইট। উদ্দেশ্য একটাই দেশ-বিদেশে থাকা সেই মানুষগুলোর হাতে দানের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। ওয়েবসাইটটি চালু হওয়ার পর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ অনলাইনে পাগলা মসজিদে দান করে যাচ্ছেন। পাগলা মসজিদ এখন শুধু একটি উপাসনালয় নয়। এটি হয়ে উঠেছে মানুষের বিশ্বাসের আতুরঘর। এবারও পুরো দেশ তাকিয়ে আছে, গণনার শেষে কি পরিমাণ টাকা, অলংকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ পৌরসভার হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। শুরুতে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে এটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর বিস্তৃত। 

আরও পড়ুন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের যুবকের মৃত্যু

তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে রয়েছে একটি সুউচ্চ মিনার, যা পাঁচতলা ভবনের সমান উচ্চতা বিশিষ্ট এবং দূর থেকেও দৃশ্যমান। এখানে একসঙ্গে ৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এবং নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক নামাজের জায়গা। পাগলা মসজিদটি যেন সৃষ্টিকর্তার এক মহান সৃষ্টি।

বিষয় : দানবাক্স মসজিদ গণনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার ৩ মাস ২৭ দিন পর ১০টি দানবাক্স ও ৩টি ট্রাংক থেকে মিললো ৩৫ বস্তা টাকা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে খোলা হয় দানবাক্সগুলো। এরপর বস্তায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। গণনা করতে দ্বিতীয় তলায় ঢেলে দেওয়া হয় বস্তা ভর্তি টাকা। এদিন সকাল ৯টায় শুরু হয় গণনার আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে সারাদিন ধরে চলতে থাকে হিসাবের ব্যস্ততা। 

সন্ধ্যার আলোয় মিলবে টাকার চূড়ান্ত হিসাব। এসময় বস্তা ভর্তি টাকা গুনতে ৩৫০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ২০ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, ১০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন, ৫ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একসঙ্গে বসেছেন মানুষের দানের বিশ্বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করতে। এর আগে, গত ৩০ আগস্ট যখন দানবাক্স খোলা হয়েছিল, তখন ১৩টি সিন্দুক থেকে মিলেছিল রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে প্রায় ১০৩ কোটি টাকা। সংখ্যাগুলো বড় হলেও, বিশ্বাসের পরিমাপ তার চেয়েও বড়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাগলা মসজিদ এখন অনলাইনেও পৌঁছে গেছে মানুষের হাতে। 

আরও পড়ুন, কক্সবাজার সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ১ জন নিহত

গত ৪ জুলাই চালু হয়েছে পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অফিসিয়াল অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইট। উদ্দেশ্য একটাই দেশ-বিদেশে থাকা সেই মানুষগুলোর হাতে দানের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। ওয়েবসাইটটি চালু হওয়ার পর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ অনলাইনে পাগলা মসজিদে দান করে যাচ্ছেন। পাগলা মসজিদ এখন শুধু একটি উপাসনালয় নয়। এটি হয়ে উঠেছে মানুষের বিশ্বাসের আতুরঘর। এবারও পুরো দেশ তাকিয়ে আছে, গণনার শেষে কি পরিমাণ টাকা, অলংকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ পৌরসভার হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। শুরুতে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে এটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর বিস্তৃত। 

আরও পড়ুন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের যুবকের মৃত্যু

তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে রয়েছে একটি সুউচ্চ মিনার, যা পাঁচতলা ভবনের সমান উচ্চতা বিশিষ্ট এবং দূর থেকেও দৃশ্যমান। এখানে একসঙ্গে ৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এবং নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক নামাজের জায়গা। পাগলা মসজিদটি যেন সৃষ্টিকর্তার এক মহান সৃষ্টি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত