আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে আলীকদম ব্যাটালিয়নের ২ নম্বর জিপি গেটসংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে পরিচয় দেয়।
আরও পড়ুন,পতেঙ্গায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রায় দুই মাস আগে দালালচক্রের মাধ্যমে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসে। এরপর কাজের সন্ধানে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া এলাকার একটি ম্রো পাড়ায় অবস্থান করছিল। আটক সাতজনের মধ্যে কক্সবাজারের ১৪ নম্বর হাকিমপাড়া ক্যাম্পের তিনজন, ১৭ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের দুজন, ১৮ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের একজন এবং ৯ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের একজন রয়েছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৮ নভেম্বর রাত ২টার দিকে তাদের আলীকদম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের যোগাযোগের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা এসব অপরাধী চক্রের চলাচল ও তৎপরতা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদে অপরিচিত ব্যক্তিদের অবস্থান, সন্দেহজনক চলাচল এবং দালালচক্রের মাধ্যমে লোকজন স্থানান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও পড়ুন,ইসলামী যুব আন্দোলন নরসিংদী জেলার নতুন কমিটি গঠিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দালালচক্রের প্রলোভন ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। এ সুযোগে মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্র বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে পারে। ফলে শুধু ক্যাম্পের ভেতরে নয়, ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াতের পথ এবং পাহাড়ি জনপদেও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। এ অবস্থায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের করে আনার সঙ্গে জড়িত দালালচক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে আটক সাতজনের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত। এর মধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় জনজীবন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই দালালচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত, ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিষয় : ক্যাম্পেইন রোহিঙ্গা

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৭ নভেম্বর রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে আলীকদম ব্যাটালিয়নের ২ নম্বর জিপি গেটসংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে পরিচয় দেয়।
আরও পড়ুন,পতেঙ্গায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রায় দুই মাস আগে দালালচক্রের মাধ্যমে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসে। এরপর কাজের সন্ধানে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া এলাকার একটি ম্রো পাড়ায় অবস্থান করছিল। আটক সাতজনের মধ্যে কক্সবাজারের ১৪ নম্বর হাকিমপাড়া ক্যাম্পের তিনজন, ১৭ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের দুজন, ১৮ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের একজন এবং ৯ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের একজন রয়েছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৮ নভেম্বর রাত ২টার দিকে তাদের আলীকদম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদে উঠে এসেছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের যোগাযোগের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা এসব অপরাধী চক্রের চলাচল ও তৎপরতা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদে অপরিচিত ব্যক্তিদের অবস্থান, সন্দেহজনক চলাচল এবং দালালচক্রের মাধ্যমে লোকজন স্থানান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও পড়ুন,ইসলামী যুব আন্দোলন নরসিংদী জেলার নতুন কমিটি গঠিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দালালচক্রের প্রলোভন ক্যাম্প ছেড়ে পালানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। এ সুযোগে মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্র বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে পারে। ফলে শুধু ক্যাম্পের ভেতরে নয়, ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াতের পথ এবং পাহাড়ি জনপদেও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। এ অবস্থায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের করে আনার সঙ্গে জড়িত দালালচক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে আটক সাতজনের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত। এর মধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় জনজীবন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই দালালচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত, ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
