স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘ। তবে ২০২৯ সালের পর আর সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। তাই এই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মনে করেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশল কাঠামোর প্রথম তিন বছরকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব ও শুল্কনীতি সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন,প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত চলতি অর্থবছরেও
মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা জরুরি। পাশাপাশি তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুন নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ২০৩২ সাল পর্যন্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে পোশাকশিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এবং মাতারবাড়ী অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।অর্থনীতিবিদের মতে, এলডিসি উত্তরণের সময় পেছানোর ফলে যে বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাসক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিষয় : সংস্কার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘ। তবে ২০২৯ সালের পর আর সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। তাই এই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মনে করেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশল কাঠামোর প্রথম তিন বছরকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব ও শুল্কনীতি সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন,প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত চলতি অর্থবছরেও
মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা জরুরি। পাশাপাশি তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুন নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ২০৩২ সাল পর্যন্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে পোশাকশিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এবং মাতারবাড়ী অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।অর্থনীতিবিদের মতে, এলডিসি উত্তরণের সময় পেছানোর ফলে যে বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাসক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন