সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি এবং সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সফলতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টায় গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন “পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (PPEPP-EU)” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. শামসুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাহাফুজার রহমান।আরও পড়ুন , খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে, যুবক নিহত; আহত অন্তত ২৫ স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার (লাইভলিহুড) কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান এবং টেকনিক্যাল অফিসার (নিউট্রিশন) সুরাইয়া আক্তার রাখি। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, ইউপি সদস্য মো. আজার আলী, মো. মোজাম্মেল হক, এমআইএস অফিসার কাজী মো. মাহবুব হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টেকনিক্যাল অফিসার (কমিউনিটি মোবিলাইজেশন) মো. জিয়াউর রহমান।অনুষ্ঠানে সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প উপস্থাপন করা হয়। বিচারকমণ্ডলীর রায়ে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রতিমা রানী প্রথম স্থান অর্জন করেন। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে জয় করে তিনি বর্তমানে ছাগল ও গবাদিপশু পালন, সবজি চাষসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।আরও পড়ুন , ৩ দিন নিখোঁজের পর পাটক্ষেতে যুবকের মরদেহ , তদন্তে নেমেছে পুলিশতার সংগ্রামী জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলা পর্যায়ে “নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন যুদ্ধে জয়ী নারী” ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন তিনি।প্রতিযোগিতায় আংগুরা বেগম দ্বিতীয় এবং মো. জাহেদুল ইসলাম তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া আরও পাঁচজন অংশগ্রহণকারীকে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; বরং তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার বিকাশে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনগাথা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।এটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদধারায় সম্পাদিত ও প্রকাশযোগ্য ফরম্যাটে প্রস্তুত করা হয়েছে।