স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা' রাস্তা সংস্কার হয় কিন্তু চওড়া হয়না
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলার ব্যস্ততম শহর মণিরামপুর বাজারের নিত্যদিনের তীব্র যানজটের চরম ভোগান্তি এখন মণিরামপুর বাসীর কাছে ঘড়ির কাটার মতো হয়ে দাড়িয়েছে। সময়ের সাথে ঘড়ির কাটার মতো পর্যায়ক্রমে সকাল-দুপুর-রাতের নিয়মিত যানজটে নাস্তানাবুদ পুরো মণিরামপুর বাসী সহ দূরপাল্লার পরিবহন যাত্রীরা। মাঝে মাঝে তীব্র যানজটে পড়ে রোগী বহন করা এম্বুলেন্স হুঁইসেল বাজাতে থাকে অনবরত। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত সরকারের আমলে রাস্তা সংস্কার হলেও প্রশস্থ না হওয়াতে যানজটের স্থায়ী সমাধানকল্পে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। অপরদিক পথচারীদের নির্ধারিত ফুটপাত এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। মণিরামপুর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ঠ দখলদার ও যানজট নিয়ন্ত্রণে উচ্ছেদ অভিযান সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করলেও দখলমুক্ত হয়না ফুটপাত, লেগে থাকে যানজট।আরও পড়ুন, বারইয়ারহাট প্রেস ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত, সভাপতি জীবন কৃষ্ণ দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়ামণিরামপুর বাজারের নিত্য দিনের তীব্র যানজট ও ফুটপাত দখল নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক যশোর বার্তা সহ স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক দৈনিক পত্র-পত্রিকায় কয়েক ডর্জন সংবাদ প্রচার হয়েছে। সাংবাদিক, কনটেইন ক্রিয়েটর এমনকি পথচারীরাও যানজটের দীর্ঘ লাইনের ভিডিও ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট শেয়ারের কমেন্টেসে মন্তব্যে উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সেবার নামে ফুটে উঠেছে উদাসীনতার বাস্তব চিত্র।তথ্য মোতাবেক, ২০২০-২১ অর্থ বছরে যশোরের রাজারহাট থেকে মনিরামপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে চারজন ঠিকাদার কাজ করেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে মনিরামপুর থেকে চিনেটোলা পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন করে মেসার্স কপোতাক্ষ এন্টারপ্রাইজ। তবে এই ঠিকাদারী কাজের সরেজমিন ও অফিসিয়াল ডকুমেন্টসের সাথে পাওয়া গেছে গড়মিল।আরও পড়ুন, গাজীপুরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণাতথ্য অনুসন্ধানে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের খোজ নিতে গেলে জানা যায়, যশোর জেলা আ"লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক যশোর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদের ভাই যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র রেন্টু চাকলাদার ও ঠিকাদার বাবু পাটোয়ারী একক সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ভাবে দীর্ঘ ৩৮ কিঃ মিঃ রাস্তার ঐ কাজে করেছিলেন নয়-ছয়। রাস্তার পার্শবর্তী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঠিকাদার এই সড়কে কাজে গড়িমসি করেছেন। বাজারের ভেতর সড়কের দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। বাজারের বাইরে সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও তাতে ময়লা জমে থাকায় পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির সময় ড্রেনে ময়লা পানি জমে মশার বংশ বিস্তারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মহাসড়কের মনিরামপুর বাজারের দু'পাশ দিয়ে বড় বড় ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে বিগত সৈরাচারী শাষকের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোটা বান্ডেল আতাতে জনগনের ভোগান্তি বাড়লেও বাড়েনি রাস্তার আয়তন। দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ আর নাম মাত্র পরিছন্নতা কর্মী দিয়ে কয়েকদিন যানজট এড়াতে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন কাজ করালেও আবারও সেই ভোগান্তির জাতাকলে পৃষ্ঠ হচ্ছে মণিরামপুর বাসী। অবশ্য গেলো বছরে যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভা ভবনে যানজট নিরসনের জন্য কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি,গনমাধ্যম কর্মীদের সামনে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মণিরামপুর বাসীর জনভোগী একাধিক ভোগান্তীর বিপরীতে সঠিক সেবার পরিবর্তে নাম মাত্র সেবায় যানজটের এই বেহালদশার চিত্র দিন গেলেই বেড়েই চলেছে।আরও পড়ুন, নারকেল গাছের ডগায় বসে পাড়ছিলেন আম, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সেখানেই মৃত্যুএদিকে মণিরামপুরের যানজটে প্রায়ই সময় আটকা পড়ে এম্বুলেন্স! নির্ধারিত সময়ে গন্ত্যবস্থলে পৌঁছাতে না পেরে মন্তব্যের স্বীকার হয় অনেকেই। এছাড়াও দূরপাল্লার পরিবহন, মালিক সমিতির বাস, কাঁচামাল বাহী ট্রাক সহ বিভিন্ন যানবাহন ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে হাজারও ব্যাস্ততা ভুলে অসহায়ের মতো মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নাই। সম্প্রতি যানজটের পরিমান বেড়ে যাওয়াতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ সচেতন মহলের দাবী "পার্শ্ববর্তী সকল উপজেলা শহরে প্রধান সড়কের দু'পাশ দিয়ে ২/৪/৬ তলার মতো বড় বড় ভবন ভেংগে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে রাস্তা সংস্কার হলেও শুধুমাত্র মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়কের গা ঘেঁষা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন দাদা বাবুদের সাথে বিগত সরকারের স্থানীয় কয়েকজন আমলার মোটা অংকের অর্থ লেনদেনে তাদের সুবিদার্থে কয়েকটি ভবনের জন্য গোটা বাজারের দোকান ঘর সুরক্ষিত রেখে সংকীর্ণ রাস্তা সংস্কারের মধ্য দিয়ে মণিরামপুর বাসীর সাথে চরম বেঈমানী ও রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, বাসন থানার বিশেষ অভিযানে মাদক, অস্ত্র ও অপহরণ মামলার ৫ আসামী গ্রেফতারবিশ্বস্ত সূত্র বলছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে প্রকল্পকারে বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সংসদীয় আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ্যাড: গাজী এনামুল হকের (এমপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জনসাধারনের পক্ষে থাকা মণিরামপুর উপজেলার সচেতন মহলের একটি প্রবীন নেতৃবৃন্দের দলের সদস্যরা। ইতিমধ্যে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন নেমে গেছেন সরেজমিনে। যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত নানামুখী ভূমিকা নিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাজারের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, প্রধান সড়কে লোড-আনলোড বন্ধে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিয়মিত করা হচ্ছে মনিটরিং। তবে বিগত দিনের ইতিহাস বলছে, যখনি সাংবাদিকরা এ নিয়ে লেখালেখি করে তখনিই উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কিন্তু সময়ের সাথে সেই প্রক্রিয়ায় পড়তে দেখা যায় ভাটা। বর্তমানে ভুক্তভোগীদের একটি মাত্র সময়ের দাবী" পার্শ্ববর্তী সকল উপজেলা শহরে বড় বড় ভবন ভেংগে রাস্তা চওড়া হলেও মনিরামপুরে কেনো হবেনা" যানজটের স্থায়ী সমাধানকল্পে মণিরামপুর বাজারের রাস্তা প্রশস্থকরণ চাই।