ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কার্যকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও তেল স্থাপনায় হুতি হামলার পর মঙ্গলবার রাতে জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।খাজা আসিফ বলেন, এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন হলে কিংবা ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।তিনি বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক পরস্পরের নিরাপত্তার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রয়োজন দেখা দিলে পাকিস্তান সেই অঙ্গীকার পূরণ করবে।গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা।তবে খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, এই জোট কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি। বরং কোনো সদস্য দেশের ওপর আগ্রাসন হলে তিন দেশ সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেবে।
আরও পড়ুন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় মার্কিন জাহাজ
এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের মঙ্গলবারের হামলায় সৌদি আরবের আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় হামলার দাবি করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা ছিল।হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হুতি হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অটল সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়েছে।সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ আরও বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত ২০১৪ সাল থেকে চলছে। সে সময় পাকিস্তান সৌদি আরবকে সহায়তা করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে সংকটের সময় দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা স্থবির হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সব পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি।
বিষয় : সৌদি পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোট

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কার্যকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও তেল স্থাপনায় হুতি হামলার পর মঙ্গলবার রাতে জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।খাজা আসিফ বলেন, এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন হলে কিংবা ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।তিনি বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক পরস্পরের নিরাপত্তার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রয়োজন দেখা দিলে পাকিস্তান সেই অঙ্গীকার পূরণ করবে।গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা।তবে খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, এই জোট কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি। বরং কোনো সদস্য দেশের ওপর আগ্রাসন হলে তিন দেশ সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেবে।
আরও পড়ুন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় মার্কিন জাহাজ
এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের মঙ্গলবারের হামলায় সৌদি আরবের আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় হামলার দাবি করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা ছিল।হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হুতি হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অটল সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়েছে।সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ আরও বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত ২০১৪ সাল থেকে চলছে। সে সময় পাকিস্তান সৌদি আরবকে সহায়তা করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে সংকটের সময় দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা স্থবির হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সব পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন