ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে পূর্বনির্ধারিত *‘বনলতা এক্সপ্রেস’*-এর প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার পর একই রাতে কসবা উপজেলার একটি গ্রামে আয়োজিত বিকল্প প্রদর্শনীও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে চলচ্চিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শহরের কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফেসবুকে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের দাবিতে প্রচারণা চালায়। পরবর্তীতে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রদর্শনী স্থগিত করে।
আরও পড়ুন, শাকিব চান নায়ক, অপু চান ডাক্তার হোক জয়
এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর প্রতিবাদে একই দিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে বিকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেন তরুণ অ্যানিমেটর ও চলচ্চিত্রকর্মী আদিব রেজা রঙ্গন। আদিব রেজা রঙ্গনের অভিযোগ, প্রদর্শনীর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর এবং অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে প্রশাসনের নির্দেশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শো বন্ধ করে দেয়।
তিনি জানান, “প্রদর্শনী শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে কয়েকটি পুলিশের গাড়ি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে আসেন। ইউএনও, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিনেমাটি প্রদর্শন করা যাবে না এবং অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সিনেমাটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হবে।
আরও পড়ুন, বিবাহবিচ্ছেদের মামলার মধ্যেই মানহানির নোটিশ পেলেন সেলিনা জেটলি
তবে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর আগে শহরে নির্ধারিত প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ। প্রতিবাদ জানিয়েছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ, রেদওয়ান রনিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।
আরও পড়ুন, ঈদে পরিবারের সঙ্গে জেমসের বিরল ছবি প্রকাশ
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী কেন বন্ধ করা হলো। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : প্রদর্শনী বনলতা এক্সপ্রেস কসবা প্রশাসন

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে পূর্বনির্ধারিত *‘বনলতা এক্সপ্রেস’*-এর প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার পর একই রাতে কসবা উপজেলার একটি গ্রামে আয়োজিত বিকল্প প্রদর্শনীও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে চলচ্চিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শহরের কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফেসবুকে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের দাবিতে প্রচারণা চালায়। পরবর্তীতে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রদর্শনী স্থগিত করে।
আরও পড়ুন, শাকিব চান নায়ক, অপু চান ডাক্তার হোক জয়
এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর প্রতিবাদে একই দিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে বিকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেন তরুণ অ্যানিমেটর ও চলচ্চিত্রকর্মী আদিব রেজা রঙ্গন। আদিব রেজা রঙ্গনের অভিযোগ, প্রদর্শনীর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর এবং অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে প্রশাসনের নির্দেশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শো বন্ধ করে দেয়।
তিনি জানান, “প্রদর্শনী শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে কয়েকটি পুলিশের গাড়ি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে আসেন। ইউএনও, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিনেমাটি প্রদর্শন করা যাবে না এবং অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সিনেমাটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হবে।
আরও পড়ুন, বিবাহবিচ্ছেদের মামলার মধ্যেই মানহানির নোটিশ পেলেন সেলিনা জেটলি
তবে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর আগে শহরে নির্ধারিত প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনায় চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ। প্রতিবাদ জানিয়েছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ, রেদওয়ান রনিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।
আরও পড়ুন, ঈদে পরিবারের সঙ্গে জেমসের বিরল ছবি প্রকাশ
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী কেন বন্ধ করা হলো। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন