দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ধর্ষণের আশঙ্কায় আত্মহত্যা কি জায়েজ? ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থান- ‘না’

ধর্ষণের আশঙ্কায় আত্মহত্যা কি জায়েজ? ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থান- ‘না’
ধর্ষণের আশঙ্কায় আত্মহত্যা কি জায়েজ? ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থান- ‘না’

বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সম্ভ্রমহানির মতো ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে সমাজে গভীর উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে—ধর্ষণের আশঙ্কা বা জোরপূর্বক নির্যাতনের ভয় থাকলে আত্মহত্যা করা কি ইসলামে বৈধ?

ইসলামি আলেমদের মতে, যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মহত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জীবন আল্লাহর দান এবং তা ধ্বংস করার অধিকার মানুষের নেই।

আরও পড়ুন, মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—নিজেদের হত্যা না করতে এবং নিজেদের ধ্বংসের দিকে না ঠেলে দিতে। অর্থাৎ দুঃখ, ভয়, নির্যাতন বা সামাজিক যেকোনো চাপ—কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা বৈধ নয়।

ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, যদি কোনো নারী ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে তার দায়িত্ব সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আত্মরক্ষা করা। কিন্তু চেষ্টা সত্ত্বেও যদি তিনি জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তিনি গুনাহগার নন; বরং মজলুম বা নির্যাতিত হিসেবে গণ্য হবেন।

আরও পড়ুন, লামায় স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা, নেই প্রশাসনিক অভিযান

একই সঙ্গে ইসলাম আরও স্পষ্ট করেছে—জোরপূর্বক সংঘটিত অপরাধের দায় ভুক্তভোগীর ওপর বর্তায় না। বরং সম্পূর্ণ দায় অপরাধীর ওপর বর্তায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক করানো কাজের জন্য মানুষকে ক্ষমা করা হয়েছে। অর্থাৎ ভুক্তভোগী নারী এতে দায়ী নন।

আরও পড়ুন, অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপি

ইসলাম আত্মরক্ষার অধিকারও দিয়েছে। কেউ যদি নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিরোধ করেন, এবং সেই সময়ে আক্রমণকারী নিহত হয়, তাহলে এতে তার কোনো শাস্তি নেই। আর আত্মরক্ষায় কেউ নিহত হলে তাকে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন, বিদায় হজ ও ঐতিহাসিক খুতবাতুল বিদা

ইসলামি ফতোয়া ও আলেমদের মতে, সম্ভ্রমহানির ভয় থাকলেও আত্মহত্যা কখনোই বৈধ নয়। বরং পরিস্থিতি যাই হোক, ধৈর্য, আত্মরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের পথে যাওয়াই ইসলামের নির্দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের দায়িত্ব হলো ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা।

বিষয় : আত্মহত্যা ইসলাম ধর্ষণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


ধর্ষণের আশঙ্কায় আত্মহত্যা কি জায়েজ? ইসলামের সুস্পষ্ট অবস্থান- ‘না’

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সম্ভ্রমহানির মতো ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে সমাজে গভীর উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে—ধর্ষণের আশঙ্কা বা জোরপূর্বক নির্যাতনের ভয় থাকলে আত্মহত্যা করা কি ইসলামে বৈধ?

ইসলামি আলেমদের মতে, যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মহত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জীবন আল্লাহর দান এবং তা ধ্বংস করার অধিকার মানুষের নেই।

আরও পড়ুন, মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—নিজেদের হত্যা না করতে এবং নিজেদের ধ্বংসের দিকে না ঠেলে দিতে। অর্থাৎ দুঃখ, ভয়, নির্যাতন বা সামাজিক যেকোনো চাপ—কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা বৈধ নয়।

ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, যদি কোনো নারী ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে তার দায়িত্ব সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আত্মরক্ষা করা। কিন্তু চেষ্টা সত্ত্বেও যদি তিনি জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তিনি গুনাহগার নন; বরং মজলুম বা নির্যাতিত হিসেবে গণ্য হবেন।

আরও পড়ুন, লামায় স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা, নেই প্রশাসনিক অভিযান

একই সঙ্গে ইসলাম আরও স্পষ্ট করেছে—জোরপূর্বক সংঘটিত অপরাধের দায় ভুক্তভোগীর ওপর বর্তায় না। বরং সম্পূর্ণ দায় অপরাধীর ওপর বর্তায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক করানো কাজের জন্য মানুষকে ক্ষমা করা হয়েছে। অর্থাৎ ভুক্তভোগী নারী এতে দায়ী নন।

আরও পড়ুন, অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপি

ইসলাম আত্মরক্ষার অধিকারও দিয়েছে। কেউ যদি নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিরোধ করেন, এবং সেই সময়ে আক্রমণকারী নিহত হয়, তাহলে এতে তার কোনো শাস্তি নেই। আর আত্মরক্ষায় কেউ নিহত হলে তাকে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন, বিদায় হজ ও ঐতিহাসিক খুতবাতুল বিদা

ইসলামি ফতোয়া ও আলেমদের মতে, সম্ভ্রমহানির ভয় থাকলেও আত্মহত্যা কখনোই বৈধ নয়। বরং পরিস্থিতি যাই হোক, ধৈর্য, আত্মরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের পথে যাওয়াই ইসলামের নির্দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের দায়িত্ব হলো ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত