দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?

মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?
মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?

মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের অন্যতম পবিত্র স্থান। এটি শুধু নামাজ আদায়ের জায়গা নয়; বরং দ্বীনি শিক্ষা, ঈমান চর্চা ও মুসলিম সমাজের ঐক্যের কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদ—যেমন কার্পেট, বিদ্যুৎ, ফ্যান, পানির ব্যবস্থা—সবই আল্লাহর ঘরের আমানত হিসেবে গণ্য হয়। এসব সম্পদের ব্যবহার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে।

আরও পড়ুন, ‘হজ হেল্প ডেস্ক’ সেবা চালু করলেন আজহারী

বর্তমান সময়ে অনেক এলাকায় দেখা যায়, মসজিদের পানির ট্যাংকের পানি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ তা পান করেন, আবার কেউ রান্না বা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ? ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, ওয়াকফকৃত সম্পদ শুধুমাত্র নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যায়। মসজিদের পানি মূলত অজু, পান এবং ইবাদত সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত। তাই অনুমতি ছাড়া তা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা বৈধ নয় বলে ফিকহবিদরা মত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন, হজ পালনে নতুন সুবিধা সৌদি শ্রম আইনে

ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদের কোনো সম্পদ যেমন বাতি বা অন্যান্য সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। একইভাবে মসজিদের খাদেম বা দায়িত্বশীলরাও নিজের ইচ্ছায় এসব ব্যবহার করতে পারেন না, কারণ তারা মালিক নন বরং আমানতদার মাত্র। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে, যদি মসজিদ কমিটি নির্ধারিত নিয়ম, ফি বা অনুমতির মাধ্যমে পানির ব্যবহার অনুমোদন করে এবং এতে সাধারণ মুসল্লিদের কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন, লামায় শান্তিনিকেতনে ভুল রিপোর্টে আতঙ্ক, দায় এড়ালেন মালিক

ইসলামি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওয়াকফ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও শরীয়তসম্মত নিয়মের আওতায় ব্যবহার করা হলে তা গ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মসজিদের প্রতিটি সম্পদকে সম্মানের সঙ্গে দেখা এবং ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

বিষয় : নির্দেশ মসজিদ পানির ট্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


মসজিদের পানি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার কি জায়েজ?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের অন্যতম পবিত্র স্থান। এটি শুধু নামাজ আদায়ের জায়গা নয়; বরং দ্বীনি শিক্ষা, ঈমান চর্চা ও মুসলিম সমাজের ঐক্যের কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদ—যেমন কার্পেট, বিদ্যুৎ, ফ্যান, পানির ব্যবস্থা—সবই আল্লাহর ঘরের আমানত হিসেবে গণ্য হয়। এসব সম্পদের ব্যবহার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে।

আরও পড়ুন, ‘হজ হেল্প ডেস্ক’ সেবা চালু করলেন আজহারী

বর্তমান সময়ে অনেক এলাকায় দেখা যায়, মসজিদের পানির ট্যাংকের পানি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ তা পান করেন, আবার কেউ রান্না বা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ? ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, ওয়াকফকৃত সম্পদ শুধুমাত্র নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যায়। মসজিদের পানি মূলত অজু, পান এবং ইবাদত সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত। তাই অনুমতি ছাড়া তা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা বৈধ নয় বলে ফিকহবিদরা মত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন, হজ পালনে নতুন সুবিধা সৌদি শ্রম আইনে

ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদের কোনো সম্পদ যেমন বাতি বা অন্যান্য সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। একইভাবে মসজিদের খাদেম বা দায়িত্বশীলরাও নিজের ইচ্ছায় এসব ব্যবহার করতে পারেন না, কারণ তারা মালিক নন বরং আমানতদার মাত্র। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে, যদি মসজিদ কমিটি নির্ধারিত নিয়ম, ফি বা অনুমতির মাধ্যমে পানির ব্যবহার অনুমোদন করে এবং এতে সাধারণ মুসল্লিদের কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন, লামায় শান্তিনিকেতনে ভুল রিপোর্টে আতঙ্ক, দায় এড়ালেন মালিক

ইসলামি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওয়াকফ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও শরীয়তসম্মত নিয়মের আওতায় ব্যবহার করা হলে তা গ্রহণযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মসজিদের প্রতিটি সম্পদকে সম্মানের সঙ্গে দেখা এবং ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত