রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিনই নতুন করে যোগ হচ্ছে যানজট, বিশৃঙ্খলা আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অভিজ্ঞতা। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অবৈধ অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। লাইসেন্সবিহীন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা এসব যানবাহন এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাব, প্রশাসনের দুর্বল তদারকি এবং চালকদের অদক্ষতা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে।
রাজধানীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, এমনকি মহাসড়কের সংযোগস্থলেও দেখা যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার অবাধ বিচরণ। এসব যানবাহনের বেশিরভাগই কোনো নিবন্ধন ছাড়াই চলছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে কয়েক লাখ অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই স্থানীয়ভাবে তৈরি, যেগুলোতে মানসম্মত ব্রেক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এসব যানবাহনের চালকদের অনেকেই কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই রাস্তায় নামছেন। ফলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে তাদের ধারণা সীমিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে মাইটিভির ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই অটোরিকশা দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। কারণ তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করেন। সড়কে নেমে দেখা যায়, অনেক অটোরিকশা চালকই নির্ধারিত লেন মানছেন না। উল্টো পথে চলা, হঠাৎ করে যাত্রী ওঠানামা করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা—এসব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু যাত্রীরাই নয়, পথচারীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীর সড়কগুলো মূলত মোটরযানের জন্য পরিকল্পিত। সেখানে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা যুক্ত হওয়ায় সড়কের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন, ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে, হত্যা মামলা দায়ের করলেন ছোট ভাই
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কিছুদিন অভিযান চলার পর আবার আগের মতোই পরিস্থিতি ফিরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এসব অটোরিকশা পুনরায় সড়কে নামছে। অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই দারিদ্র্যের কারণে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব এবং সহজ আয়ের সুযোগ থাকায় তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিচ্ছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা একটি সহজ মাধ্যম। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তাদের সবসময়ই ভোগায়। অনেকেই বাধ্য হয়েই এই যানবাহনে উঠছেন, কারণ বিকল্প ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করার পাশাপাশি বৈধ কাঠামোর মধ্যে এনে এই যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি, যাতে যাত্রীরা নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এড়িয়ে চলেন।
আরও পড়ুন, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, আপন ভাইদের নির্যাতনে গৃহহীন দুই বোন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; এর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। যারা এই পেশায় যুক্ত, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সবশেষে বলা যায়, রাজধানীর জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে, যার ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কঠোর বাস্তবায়নই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিনই নতুন করে যোগ হচ্ছে যানজট, বিশৃঙ্খলা আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অভিজ্ঞতা। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অবৈধ অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। লাইসেন্সবিহীন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা এসব যানবাহন এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাব, প্রশাসনের দুর্বল তদারকি এবং চালকদের অদক্ষতা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে।
রাজধানীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, এমনকি মহাসড়কের সংযোগস্থলেও দেখা যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার অবাধ বিচরণ। এসব যানবাহনের বেশিরভাগই কোনো নিবন্ধন ছাড়াই চলছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে কয়েক লাখ অবৈধ অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই স্থানীয়ভাবে তৈরি, যেগুলোতে মানসম্মত ব্রেক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এসব যানবাহনের চালকদের অনেকেই কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই রাস্তায় নামছেন। ফলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে তাদের ধারণা সীমিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে মাইটিভির ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই অটোরিকশা দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। কারণ তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করেন। সড়কে নেমে দেখা যায়, অনেক অটোরিকশা চালকই নির্ধারিত লেন মানছেন না। উল্টো পথে চলা, হঠাৎ করে যাত্রী ওঠানামা করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা—এসব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু যাত্রীরাই নয়, পথচারীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীর সড়কগুলো মূলত মোটরযানের জন্য পরিকল্পিত। সেখানে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা যুক্ত হওয়ায় সড়কের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে যানজট বাড়ছে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন, ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে, হত্যা মামলা দায়ের করলেন ছোট ভাই
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কিছুদিন অভিযান চলার পর আবার আগের মতোই পরিস্থিতি ফিরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এসব অটোরিকশা পুনরায় সড়কে নামছে। অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই দারিদ্র্যের কারণে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব এবং সহজ আয়ের সুযোগ থাকায় তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিচ্ছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা একটি সহজ মাধ্যম। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তাদের সবসময়ই ভোগায়। অনেকেই বাধ্য হয়েই এই যানবাহনে উঠছেন, কারণ বিকল্প ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করার পাশাপাশি বৈধ কাঠামোর মধ্যে এনে এই যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি, যাতে যাত্রীরা নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এড়িয়ে চলেন।
আরও পড়ুন, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, আপন ভাইদের নির্যাতনে গৃহহীন দুই বোন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; এর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। যারা এই পেশায় যুক্ত, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সবশেষে বলা যায়, রাজধানীর জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে, যার ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কঠোর বাস্তবায়নই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।

আপনার মতামত লিখুন