পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক। কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২২ মার্চ) বাংলা নিউজের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, রমজান মাসজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছেন, যার সুফল পাওয়া গেছে ঈদের দিনেও। তিনি আরো বলেন, যে-কোনো অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে, অপরাধীদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন, ঢাকায় আজ বৃষ্টি নেই, দুপুরে বাড়তে পারে তাপমাত্রা
ঈদের দিন সকালে মুসল্লিরা ঈদের জামাত আদায়ের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু করেন। এরপর দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র-জাতীয়, চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিলসহ পার্কগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সর্বত্রই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদ সম্পর্কিত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমশনার বলেন, রমজানের শুরু থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে অনেক মানুষ ঢাকার বাইরে যাওয়ায় রাজধানীর অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এ কারণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, আনন্দে ভাসছে দেশ
রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত আগামী এক সপ্তাহ প্রায় ২০০টির বেশি ফুট-পেট্রোল দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ২৫০টি গাড়ি পেট্রোল, ৭০টির বেশি ফুট-পেট্রোল এবং ৭০টির বেশি চেকপোস্ট সক্রিয় রয়েছে। ডিএমপি কমিশনার ঢাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বাড়িতে তালা দিয়ে বাইরে গেছেন, তারা যেন পরিচিতজনের মাধ্যমে বাসার খোঁজখবর রাখেন এবং সিসিটিভি নজরদারি সচল রাখেন। কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করারও আহ্বান তিনি। উল্লেখ্য, এবারের ঈদুল ফিতরে ঢাকা মহানগরে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহে এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে।
আপনার মতামত লিখুন