দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

থানার ১০০ গজের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে লুটপাট, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা সদর এলাকায় থানার মাত্র ১০০ গজের মধ্যে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ব্যাপক তাণ্ডব চালালেও কেউ তা টের না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধারা।জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্ত। তারা কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে কার্যালয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনাটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি তছনছ করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা দুটি বৈদ্যুতিক ফ্যান, একটি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কার্যালয়ের কিছু টিনও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের পাশেই জেলা পরিষদের ডাকবাংলো অবস্থিত। এলাকাটি সবসময় জনসমাগমপূর্ণ এবং থানাও খুব কাছাকাছি। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট সংঘটিত হওয়ার পরও কেউ কিছু জানতে না পারায় ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।আরও  পড়ুন , রংপুর বিভাগের গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে গোশত পাচারের চেষ্টা, গ্রেফতার ৬উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “একাত্তরের পর থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বিরোধের ঘটনা ঘটেনি। তাই এটিকে শুধুমাত্র সাধারণ চুরির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কার্যালয় তছনছ করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”তিনি আরও বলেন, “কার্যালয়ের পাশেই ডাকবাংলো রয়েছে। সেখানে লোকজনের উপস্থিতি থাকার কথা। রাতের বেলায় নিরাপত্তারক্ষীও থাকেন। এত বড় ধরনের ভাঙচুরের শব্দ আশপাশের লোকজনের শোনার কথা। কিন্তু কেউ কিছু টের পেল না—এ বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের কার্যালয়ে এমন ঘটনা শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানের ওপরও আঘাত।পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

থানার ১০০ গজের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে লুটপাট, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন