খরস্রোতা শঙ্খ নদীর বুকে আবারও শুরু হয়েছে অবাধ বালু লুট। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি- চিরিংঘাটা ও বৈলতলী খোদারহাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর উপর নির্মিত খোদারহাট সেতু, সরকারিভাবে স্থাপিত তীররক্ষা ব্লক এবং দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষায় শঙ্খ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বহু মানুষ ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙন রোধে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্লক স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণ করলেও সেতুর পিলারের কাছ থেকে বালু উত্তোলন সেই সব উদ্যোগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধোপাছড়ির উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদ সংলগ্ন নদীপথে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যেই বালু তোলা হচ্ছে। শ্রমিকরা দাবি করেন, দিয়াকুলুচিরিংঘাটাুধোপাছড়ি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বালু নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—এই বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বালু দস্যুরা।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় ঐক্যবদ্ধ জনতার উদ্যোগে ৩ শতাধিক পরিবার পেল ঈদ সামগ্রী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুর পিলার বা নদীর তীররক্ষা ব্লকের কাছে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে প্রবাহের গতি বেড়ে যায়, ফলে পাড় ভাঙন ও সেতুর ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। গত কয়েকদিন ধরে, এমনকি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরেও খোদারহাট সেতুর পিলারের নিকট থেকে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর দুই পাড়ের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, মসজিদুমাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, যে স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেখানে গত বছর একটি শিশু গভীর গর্তে পড়ে মারা যায়। এখন যেভাবে উত্তোলন চলছে, তাতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত বছর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সড়ক উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আবারও একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে দুঃস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
বৈলতলীর বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এডভোকেট শফিউল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, খোদারহাট সেতুর পিলারের পাশ থেকে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রশাসনকে দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন ও কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তার সেই সতর্কতার মধ্যেই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বাড়ছে।
আরও পড়ুন, লামায় কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও জমি দখল, থানায় লিখিত অভিযোগ
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।” তবে স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে খোদারহাট সেতুসহ পুরো এলাকার পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
বিষয় : চট্টগ্রাম খোদারহাট সেতু শঙ্খ নদী

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
খরস্রোতা শঙ্খ নদীর বুকে আবারও শুরু হয়েছে অবাধ বালু লুট। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি- চিরিংঘাটা ও বৈলতলী খোদারহাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর উপর নির্মিত খোদারহাট সেতু, সরকারিভাবে স্থাপিত তীররক্ষা ব্লক এবং দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষায় শঙ্খ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বহু মানুষ ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙন রোধে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্লক স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণ করলেও সেতুর পিলারের কাছ থেকে বালু উত্তোলন সেই সব উদ্যোগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধোপাছড়ির উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদ সংলগ্ন নদীপথে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যেই বালু তোলা হচ্ছে। শ্রমিকরা দাবি করেন, দিয়াকুলুচিরিংঘাটাুধোপাছড়ি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বালু নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—এই বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বালু দস্যুরা।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় ঐক্যবদ্ধ জনতার উদ্যোগে ৩ শতাধিক পরিবার পেল ঈদ সামগ্রী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুর পিলার বা নদীর তীররক্ষা ব্লকের কাছে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে প্রবাহের গতি বেড়ে যায়, ফলে পাড় ভাঙন ও সেতুর ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। গত কয়েকদিন ধরে, এমনকি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরেও খোদারহাট সেতুর পিলারের নিকট থেকে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর দুই পাড়ের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, মসজিদুমাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, যে স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেখানে গত বছর একটি শিশু গভীর গর্তে পড়ে মারা যায়। এখন যেভাবে উত্তোলন চলছে, তাতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত বছর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সড়ক উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আবারও একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে দুঃস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
বৈলতলীর বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এডভোকেট শফিউল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, খোদারহাট সেতুর পিলারের পাশ থেকে বালু উত্তোলনের ভিডিও প্রশাসনকে দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন ও কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তার সেই সতর্কতার মধ্যেই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বাড়ছে।
আরও পড়ুন, লামায় কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও জমি দখল, থানায় লিখিত অভিযোগ
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।” তবে স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে খোদারহাট সেতুসহ পুরো এলাকার পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন