দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বিয়ের বাড়ি থেকে নববধুর ঘরে ফেরা হলনা, বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন

বিয়ের বাড়ি থেকে নববধুর ঘরে ফেরা হলনা, বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বিয়ের বাড়ি থেকে নববধুর ঘরে ফেরা হলনা, বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন

বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই তা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৮ সদস্যসহ ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের মাতম বইছে এলাকাজুড়ে। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনকে মংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া নববধূসহ তার পরিবারের দুই সদস্যকে খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং অপর একজনকে খুলনায় দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদালাপী ও মিষ্টিভাষী আব্দুর রাজ্জাক। পরিবারের ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ আট সদস্যকে নিয়ে তিনি একসঙ্গে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম মোড়লের মেয়ে মিতুর সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মংলার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে খুলনাুমংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার গুনাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে নববধূবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন, নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন শুরুর আগেই নিভে যায় নবদম্পতির জীবনপ্রদীপ। একই সঙ্গে পরিবারপ্রধান আব্দুর রাজ্জাকও পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে চিরবিদায় নেন।দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের জীবিত সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্থানীয়রা ছুটে এসে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও কারও মুখে সান্ত্বনার ভাষা নেই।

আরও পড়ুন, বগুড়ায় হলুদে ধানের তুষ মিশিয়ে ভেজাল, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের পুত্রবধূ পুতুল ও তার তিন শিশু সন্তান। বোন ও তিন ভাগ্নেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পুতুলের বড় ভাই লিটন শিকারি। বোন ও ভাগ্নেদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার আহাজারি করছেন এবং মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়ছেন। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে।

বিষয় : দুর্ঘটনা দাফন নববধু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বিয়ের বাড়ি থেকে নববধুর ঘরে ফেরা হলনা, বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই তা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৮ সদস্যসহ ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের মাতম বইছে এলাকাজুড়ে। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনকে মংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া নববধূসহ তার পরিবারের দুই সদস্যকে খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং অপর একজনকে খুলনায় দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদালাপী ও মিষ্টিভাষী আব্দুর রাজ্জাক। পরিবারের ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ আট সদস্যকে নিয়ে তিনি একসঙ্গে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম মোড়লের মেয়ে মিতুর সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মংলার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে খুলনাুমংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার গুনাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে নববধূবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন, নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন শুরুর আগেই নিভে যায় নবদম্পতির জীবনপ্রদীপ। একই সঙ্গে পরিবারপ্রধান আব্দুর রাজ্জাকও পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে চিরবিদায় নেন।দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের জীবিত সদস্যরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্থানীয়রা ছুটে এসে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও কারও মুখে সান্ত্বনার ভাষা নেই।

আরও পড়ুন, বগুড়ায় হলুদে ধানের তুষ মিশিয়ে ভেজাল, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের পুত্রবধূ পুতুল ও তার তিন শিশু সন্তান। বোন ও তিন ভাগ্নেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পুতুলের বড় ভাই লিটন শিকারি। বোন ও ভাগ্নেদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার আহাজারি করছেন এবং মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়ছেন। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত