দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দুর্গ হারিয়ে নীরব জিএম কাদের

দুর্গ হারিয়ে নীরব জিএম কাদের
দুর্গ হারিয়ে নীরব জিএম কাদের

প্রায় চার দশক ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর সদর-৩ আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এই আসন হাতছাড়া হয়ে গেছে দলটির। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ভোট, ফলে তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।

এই ফলাফল রংপুরের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৮৬ সাল থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাদ এরশাদ এখানে নির্বাচিত হন। একবার উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন রওশন এরশাদ। ফলে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘এরশাদ পরিবারের দুর্গ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল।

২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিএম কাদের।পরবর্তীতে ২০২৪ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি হারালেও সদর-৩ আসনটি জাতীয় পার্টি শক্তভাবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ভোটে স্থানীয় ইস্যু, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। জামায়াতের প্রার্থী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালান এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন।

বিপরীতে নির্বাচনের দিন জিএম কাদের কোনো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বের হননি। তিনি মিডিয়া এড়িয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। ফলে ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন একই রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে থাকার কারণে আসনটিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে আসনটিতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।

আরও পড়ুন, বিএনপি জোট থেকে তিন প্রার্থীর জয়

লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান শুধু একটি পরাজয় নয়, বরং জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে রংপুর, যা দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে এই পরাজয় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি জিএম কাদের। দলীয় নেতাকর্মীরাও রয়েছেন নীরব। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে-রংপুরের এই পরিবর্তন কি সাময়িক, নাকি এটি জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা?

রংপুর সদর-৩ আসনের এই ফলাফল শুধু একটি আসনের হিসাব নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। জাতীয় পার্টির দুর্গ খ্যাত আসনে জামায়াতের জয় প্রমাণ করে, ভোটের মাঠে শেষ কথা বলেন জনগণই।

বিষয় : রংপুর জিএম কাদের

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


দুর্গ হারিয়ে নীরব জিএম কাদের

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রায় চার দশক ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর সদর-৩ আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এই আসন হাতছাড়া হয়ে গেছে দলটির। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ভোট, ফলে তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।

এই ফলাফল রংপুরের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৮৬ সাল থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাদ এরশাদ এখানে নির্বাচিত হন। একবার উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন রওশন এরশাদ। ফলে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘এরশাদ পরিবারের দুর্গ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল।

২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিএম কাদের।পরবর্তীতে ২০২৪ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি হারালেও সদর-৩ আসনটি জাতীয় পার্টি শক্তভাবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ভোটে স্থানীয় ইস্যু, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। জামায়াতের প্রার্থী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালান এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন।

বিপরীতে নির্বাচনের দিন জিএম কাদের কোনো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বের হননি। তিনি মিডিয়া এড়িয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। ফলে ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন একই রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে থাকার কারণে আসনটিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে আসনটিতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।

আরও পড়ুন, বিএনপি জোট থেকে তিন প্রার্থীর জয়

লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান শুধু একটি পরাজয় নয়, বরং জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে রংপুর, যা দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে এই পরাজয় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি জিএম কাদের। দলীয় নেতাকর্মীরাও রয়েছেন নীরব। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে-রংপুরের এই পরিবর্তন কি সাময়িক, নাকি এটি জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা?

রংপুর সদর-৩ আসনের এই ফলাফল শুধু একটি আসনের হিসাব নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। জাতীয় পার্টির দুর্গ খ্যাত আসনে জামায়াতের জয় প্রমাণ করে, ভোটের মাঠে শেষ কথা বলেন জনগণই।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত