দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

মামুন হাসানের সমর্থনে চাঙ্গা মিল্টনের প্রচারণা উত্তপ্ত ঢাকা-১৫

মামুন হাসানের সমর্থনে চাঙ্গা মিল্টনের প্রচারণা উত্তপ্ত ঢাকা-১৫
মামুন হাসানের সমর্থনে চাঙ্গা মিল্টনের প্রচারণা উত্তপ্ত ঢাকা-১৫

ভোটারদের মন জয়ে মাঠে সক্রিয় প্রার্থীরা ! শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলাবে কি? নজর এখন রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে, ঢাকা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত সংসদীয় এলাকা ঢাকা- ১৫ এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রার্থীদের প্রচারণা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে এবং ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে চলছে নানা কৌশলগত কার্যক্রম। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফলে আসনটিতে দুই বড় রাজনৈতিক শক্তির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়াই জমে উঠেছে।

দলীয় ঐক্যে নতুন গতি, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় ছিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মামুন হাসানও শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন পান শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। প্রথম দিকে কিছু কর্মীর মধ্যে হতাশা থাকলেও পরবর্তীতে মামুন হাসানের প্রকাশ্য সমর্থন এবং মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহণে দলীয় ঐক্য দৃশ্যমান হয়েছে।শুক্রবার ও শনিবার সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় যৌথ প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারা কর্মীদের উজ্জীবিত করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। 

এতে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা,অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারণা এখন বড় সমাবেশের বাইরে গিয়ে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, উঠান বৈঠক, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযো গমাধ্যম ভিত্তিক প্রচারণায় রূপ নিয়েছে।এলাকার বিভিন্ন বাজার, মসজিদ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে প্রার্থীদেরপ্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটারদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন, বিএনপি ছাড়া দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোনো দল নেই: তারেক রহমান

ভোটের হিসাব ও মাঠের বাস্তবতা

ঢাকা- ১৫ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার, যেখানে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতি যদি উল্লেখযোগ্য হয়, তাহলে ফলাফল নির্ধারণে সাংগঠনিক শক্তি ও শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই বড় ভূমিকা রাখবে। কিছু জরিপে ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষও নিজেদের শক্ত অবস্থানের দাবি করছে। ফলে শেষ পর্যন্ত লড়াই যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সে বিষয়ে সবাই একমত। ভোটারদের প্রত্যাশা কী? এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজন প্রতিনিধিকে চান যিনি নির্বাচনের পরও এলাকায় সক্রিয় থাকবেন এবং নাগরিক সমস্যা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভোটের সময় সবাই আসে, কিন্তু নির্বাচনের পর অনেককে আর দেখা যায় না। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি সব সময় পাশে থাকবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এখানে ভোটের প্রবণতা অনেক সময় সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায়। তাদের মতে, নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে প্রচারণার গতি, ভোটারদের উপস্থিতি এবং কেন্দ্রভিত্তিক সাংগঠনিক প্রস্তুতিই ফলাফল নির্ধারণ করবে। ঢাকা, ১৫ আসনে এখন উত্তেজনা চরমে। প্রতিটি দিন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। মাঠের হিসাব শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা জানার জন্য তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষও।

বিষয় : প্রচারণা মামুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


মামুন হাসানের সমর্থনে চাঙ্গা মিল্টনের প্রচারণা উত্তপ্ত ঢাকা-১৫

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভোটারদের মন জয়ে মাঠে সক্রিয় প্রার্থীরা ! শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলাবে কি? নজর এখন রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে, ঢাকা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত সংসদীয় এলাকা ঢাকা- ১৫ এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রার্থীদের প্রচারণা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে এবং ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে চলছে নানা কৌশলগত কার্যক্রম। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফলে আসনটিতে দুই বড় রাজনৈতিক শক্তির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়াই জমে উঠেছে।

দলীয় ঐক্যে নতুন গতি, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় ছিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মামুন হাসানও শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন পান শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। প্রথম দিকে কিছু কর্মীর মধ্যে হতাশা থাকলেও পরবর্তীতে মামুন হাসানের প্রকাশ্য সমর্থন এবং মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহণে দলীয় ঐক্য দৃশ্যমান হয়েছে।শুক্রবার ও শনিবার সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় যৌথ প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারা কর্মীদের উজ্জীবিত করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। 

এতে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা,অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারণা এখন বড় সমাবেশের বাইরে গিয়ে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, উঠান বৈঠক, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযো গমাধ্যম ভিত্তিক প্রচারণায় রূপ নিয়েছে।এলাকার বিভিন্ন বাজার, মসজিদ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে প্রার্থীদেরপ্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটারদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন, বিএনপি ছাড়া দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোনো দল নেই: তারেক রহমান

ভোটের হিসাব ও মাঠের বাস্তবতা

ঢাকা- ১৫ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার, যেখানে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতি যদি উল্লেখযোগ্য হয়, তাহলে ফলাফল নির্ধারণে সাংগঠনিক শক্তি ও শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই বড় ভূমিকা রাখবে। কিছু জরিপে ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষও নিজেদের শক্ত অবস্থানের দাবি করছে। ফলে শেষ পর্যন্ত লড়াই যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সে বিষয়ে সবাই একমত। ভোটারদের প্রত্যাশা কী? এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজন প্রতিনিধিকে চান যিনি নির্বাচনের পরও এলাকায় সক্রিয় থাকবেন এবং নাগরিক সমস্যা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভোটের সময় সবাই আসে, কিন্তু নির্বাচনের পর অনেককে আর দেখা যায় না। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি সব সময় পাশে থাকবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এখানে ভোটের প্রবণতা অনেক সময় সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায়। তাদের মতে, নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে প্রচারণার গতি, ভোটারদের উপস্থিতি এবং কেন্দ্রভিত্তিক সাংগঠনিক প্রস্তুতিই ফলাফল নির্ধারণ করবে। ঢাকা, ১৫ আসনে এখন উত্তেজনা চরমে। প্রতিটি দিন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। মাঠের হিসাব শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা জানার জন্য তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষও।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত