রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী। করপোরেট অফিস, কূটনৈতিক এলাকা ও আধুনিক আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অনৈতিক কার্যকলাপ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে। বনানীর ১১ নম্বর রোডের ঢাকা ব্যাংকের ১২ তলায় একটি স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্রের দাবি এই স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দালাল চক্রের তৎপরতা এবং প্রয়োজনে মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্পা সেন্টারটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি ‘শাওন’ নামে পরিচিত। যদিও তার পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে, তবে একাধিক সূত্রের দাবি এই ব্যক্তি ও তার সহযোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনানী ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তবে বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ এসব অভিযান বেশিরভাগ সময়ই সাময়িক প্রভাব ফেলে।
একাধিক সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা বাড়লে কার্যক্রম সীমিত করা হয়। তবে পরে আবার ধীরে ধীরে কার্যক্রম শুরু হয়। স্পা সেন্টার সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছুদিন আগে পুলিশের ঝামেলা ছিল, এখন মোটামুটি ম্যানেজ করে কোনমতে শুরু করেছি। তবে আগের মতো আর খোলামেলা নয়। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ কমলেই অবৈধ কার্যক্রম নতুন কৌশলে ফের শুরু হয়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক স্পা সেন্টারটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হতাশার সুরে জানান, সত্যি বলতে এখন আর এই ব্যবসায় মজা নেই। পুলিশ বন্ধ করলে করে দিক। ভয় আগের মতো নেই, আবার চাপও বেশি। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একদিকে পুলিশের নজরদারি বাড়লেও অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মানসিকভাবে ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে দালাল চক্রের ভূমিকা নিয়ে। একাধিক সূত্র জানায়, বনানীর বিভিন্ন অলিগলিতে দালাল ও নজরদারি টিম মোতায়েন থাকে।
একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, পুলিশ আসার আগেই আমরা খবর পাই। থানা থেকে হোক বা দালাল চক্র থেকে আগে সংকেত আসে। তখন ভেতরের সবকিছু গুটিয়ে নেওয়া হয়। এই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে পুলিশের অনেক অভিযানে তেমন কাউকে হাতেনাতে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক বা সাধারণ কেউ অভিযোগ করলে তা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়ার বিষয়ে।
একটি সূত্রের দাবি, কেউ অভিযোগ করলে বা সাংবাদিক যোগাযোগ করলে সেটার খবর আগেই স্পা সেন্টার পক্ষ পেয়ে যায়। এরপর তারা সতর্ক হয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো সময় প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তুললে স্পা সেন্টার সংশ্লিষ্ট লোকজন মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। একজন বাসিন্দা আরো বলেন, হঠাৎ ১০-১৫ জন জড়ো হয়ে যায়। কথা বললেই উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে আর কিছু বলে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মব সংস্কৃতি অপরাধীদের জন্য একটি কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ‘শাওন’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলশান ও বনানী এলাকায় একাধিক মামলা থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি এই মামলাগুলো তাদের আর ভীত করে না। কিন্তু একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, মামলা তো আগেও ছিল। এখন আর এসবের ভয় নেই। বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় এই ধরনের অবৈধ স্পা সেন্টার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও ইঙ্গিত।
আরো পড়ুন: https://dailysdigantabd.com/post/17158/
একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, যখন অভিজাত এলাকায় অনৈতিক ব্যবসা স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন সেটি পুরো সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। নারী শোষণ, মানবপাচার ও অপরাধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় তথ্যের ভিত্তিতে। তবে আগাম সতর্কতা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। তবে এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন একই এলাকায় বারবার একই অভিযোগ উঠে আসছে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
আরো পড়ুন: https://dailysdigantabd.com/post/17054/
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে বনানীর ১১ নম্বর রোডের ঢাকা ব্যাংকের ১২ তলায় স্পা সেন্টারকে ঘিরে আরও তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দালাল চক্রের ভূমিকা সম্পর্কে অতিরিক্ত উপাত্ত পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব নাম প্রকাশ করা হয়নি। বনানীর অবৈধ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে—অপরাধ যখন সংগঠিত রূপ নেয়, তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। পুলিশের অভিযান, প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও গণমাধ্যমের নজরদারি একসঙ্গে কার্যকর না হলে এই ধরনের অনৈতিক ব্যবসা বারবার ফিরে আসবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক কঠোরতা, জবাবদিহিতা এবং অপরাধীদের ভয়মুক্ত মানসিকতা ভেঙে দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত।
এবিষয়ে বনানী থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অবৈধ স্পা সেন্টারসহ যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থানা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই অভিযুক্তরা সরে যায় বা কার্যক্রম গোপনে পরিচালনা করে, যা তদন্তকে কিছুটা জটিল করে তোলে। তবুও আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তোলে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই সহযোগিতা করলে বনানী এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। তবে উক্ত অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী। করপোরেট অফিস, কূটনৈতিক এলাকা ও আধুনিক আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অনৈতিক কার্যকলাপ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে। বনানীর ১১ নম্বর রোডের ঢাকা ব্যাংকের ১২ তলায় একটি স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্রের দাবি এই স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দালাল চক্রের তৎপরতা এবং প্রয়োজনে মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্পা সেন্টারটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি ‘শাওন’ নামে পরিচিত। যদিও তার পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে, তবে একাধিক সূত্রের দাবি এই ব্যক্তি ও তার সহযোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনানী ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তবে বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ এসব অভিযান বেশিরভাগ সময়ই সাময়িক প্রভাব ফেলে।
একাধিক সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা বাড়লে কার্যক্রম সীমিত করা হয়। তবে পরে আবার ধীরে ধীরে কার্যক্রম শুরু হয়। স্পা সেন্টার সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছুদিন আগে পুলিশের ঝামেলা ছিল, এখন মোটামুটি ম্যানেজ করে কোনমতে শুরু করেছি। তবে আগের মতো আর খোলামেলা নয়। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ কমলেই অবৈধ কার্যক্রম নতুন কৌশলে ফের শুরু হয়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক স্পা সেন্টারটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হতাশার সুরে জানান, সত্যি বলতে এখন আর এই ব্যবসায় মজা নেই। পুলিশ বন্ধ করলে করে দিক। ভয় আগের মতো নেই, আবার চাপও বেশি। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একদিকে পুলিশের নজরদারি বাড়লেও অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মানসিকভাবে ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে দালাল চক্রের ভূমিকা নিয়ে। একাধিক সূত্র জানায়, বনানীর বিভিন্ন অলিগলিতে দালাল ও নজরদারি টিম মোতায়েন থাকে।
একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, পুলিশ আসার আগেই আমরা খবর পাই। থানা থেকে হোক বা দালাল চক্র থেকে আগে সংকেত আসে। তখন ভেতরের সবকিছু গুটিয়ে নেওয়া হয়। এই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে পুলিশের অনেক অভিযানে তেমন কাউকে হাতেনাতে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক বা সাধারণ কেউ অভিযোগ করলে তা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়ার বিষয়ে।
একটি সূত্রের দাবি, কেউ অভিযোগ করলে বা সাংবাদিক যোগাযোগ করলে সেটার খবর আগেই স্পা সেন্টার পক্ষ পেয়ে যায়। এরপর তারা সতর্ক হয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো সময় প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তুললে স্পা সেন্টার সংশ্লিষ্ট লোকজন মব সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। একজন বাসিন্দা আরো বলেন, হঠাৎ ১০-১৫ জন জড়ো হয়ে যায়। কথা বললেই উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে আর কিছু বলে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মব সংস্কৃতি অপরাধীদের জন্য একটি কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ‘শাওন’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলশান ও বনানী এলাকায় একাধিক মামলা থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি এই মামলাগুলো তাদের আর ভীত করে না। কিন্তু একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, মামলা তো আগেও ছিল। এখন আর এসবের ভয় নেই। বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় এই ধরনের অবৈধ স্পা সেন্টার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও ইঙ্গিত।
আরো পড়ুন: https://dailysdigantabd.com/post/17158/
একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, যখন অভিজাত এলাকায় অনৈতিক ব্যবসা স্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন সেটি পুরো সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। নারী শোষণ, মানবপাচার ও অপরাধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় তথ্যের ভিত্তিতে। তবে আগাম সতর্কতা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। তবে এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন একই এলাকায় বারবার একই অভিযোগ উঠে আসছে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
আরো পড়ুন: https://dailysdigantabd.com/post/17054/
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে বনানীর ১১ নম্বর রোডের ঢাকা ব্যাংকের ১২ তলায় স্পা সেন্টারকে ঘিরে আরও তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দালাল চক্রের ভূমিকা সম্পর্কে অতিরিক্ত উপাত্ত পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব নাম প্রকাশ করা হয়নি। বনানীর অবৈধ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে—অপরাধ যখন সংগঠিত রূপ নেয়, তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। পুলিশের অভিযান, প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও গণমাধ্যমের নজরদারি একসঙ্গে কার্যকর না হলে এই ধরনের অনৈতিক ব্যবসা বারবার ফিরে আসবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক কঠোরতা, জবাবদিহিতা এবং অপরাধীদের ভয়মুক্ত মানসিকতা ভেঙে দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত।
এবিষয়ে বনানী থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অবৈধ স্পা সেন্টারসহ যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থানা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই অভিযুক্তরা সরে যায় বা কার্যক্রম গোপনে পরিচালনা করে, যা তদন্তকে কিছুটা জটিল করে তোলে। তবুও আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তোলে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই সহযোগিতা করলে বনানী এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। তবে উক্ত অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন