যদি ঘরে বসে দ্রুত উচ্চ রক্তচাপ কমাতে চান, তবে প্রতিদিন ডায়েটে একটি ফল রাখার অভ্যাস করুন। গবেষণা বলছে, নিয়মিত একটি ফল খাওয়াই হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা তখন ঘটে যখন রক্তনালিতে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয় ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। কিন্তু যখন রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ চাপে বা তার বেশি হয়, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। অনেক সময় সাধারণভাবে এটিকে ‘প্রেশার’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করলে এটি শরীরের বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি শুধু রক্তনালীর সমস্যা নয়, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় যা রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমস অনুসারে, হাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলা অত্যন্ত কার্যকর। কলা এমন একটি ফল যা বারোমাসি পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে।
ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টারের খাদ্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কোলিন স্পিজ বলেন, “প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কলার চেয়ে ভালো কিছু নেই।” এছাড়া আমেরিকান জার্নাল অফ ফিজিওলজি-রেনাল ফিজিওলজি-তে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা গেছে, উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কলা এই ক্ষেত্রে সেরা উৎস। ‘জার্নাল অফ হিউম্যান হাইপারটেনশন’-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবণ কমিয়ে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।
১. শরীরে লবণ বা সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।
২. প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করা।
কলায় শুধু পটাশিয়াম নয়, প্রচুর ফাইবারও রয়েছে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হার্ট ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ডায়াবেটিস রোগীরাও নিয়মিত কলা খেলে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এছাড়া কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং অনিদ্রা দূর করতেও কার্যকর। সুতরাং, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ঘরে বসেই প্রতিদিন কলা খাওয়া দারুণ সহায়ক ও সহজলভ্য উপায়।
বিষয় : ডায়েট কলা উচ্চ রক্তচাপ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
যদি ঘরে বসে দ্রুত উচ্চ রক্তচাপ কমাতে চান, তবে প্রতিদিন ডায়েটে একটি ফল রাখার অভ্যাস করুন। গবেষণা বলছে, নিয়মিত একটি ফল খাওয়াই হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা তখন ঘটে যখন রক্তনালিতে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয় ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। কিন্তু যখন রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ চাপে বা তার বেশি হয়, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। অনেক সময় সাধারণভাবে এটিকে ‘প্রেশার’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করলে এটি শরীরের বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি শুধু রক্তনালীর সমস্যা নয়, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় যা রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমস অনুসারে, হাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলা অত্যন্ত কার্যকর। কলা এমন একটি ফল যা বারোমাসি পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে।
ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টারের খাদ্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কোলিন স্পিজ বলেন, “প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কলার চেয়ে ভালো কিছু নেই।” এছাড়া আমেরিকান জার্নাল অফ ফিজিওলজি-রেনাল ফিজিওলজি-তে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা গেছে, উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কলা এই ক্ষেত্রে সেরা উৎস। ‘জার্নাল অফ হিউম্যান হাইপারটেনশন’-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবণ কমিয়ে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।
১. শরীরে লবণ বা সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।
২. প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করা।
কলায় শুধু পটাশিয়াম নয়, প্রচুর ফাইবারও রয়েছে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হার্ট ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ডায়াবেটিস রোগীরাও নিয়মিত কলা খেলে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এছাড়া কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং অনিদ্রা দূর করতেও কার্যকর। সুতরাং, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ঘরে বসেই প্রতিদিন কলা খাওয়া দারুণ সহায়ক ও সহজলভ্য উপায়।

আপনার মতামত লিখুন