দেশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অবহেলা, অপরিষ্কার থাকা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে সাধারণ দাদও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নিতে পারে। চিকিৎসক ও গবেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড–জাতীয় ক্রিম ব্যবহারের কারণে কিছু ছত্রাক ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, যাকে অনেক সময় ‘সুপার ফাঙ্গাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়াকে অবহেলা নয়, হতে পারে ক্যানসারের লক্ষন
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী বলেন, ফাঙ্গাল ইনফেকশন একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা কাপড়, তোয়ালে, বিছানার চাদর বা সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে। তিনি জানান, সাধারণভাবে যাকে দাদ বলা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সেটিকে টিনিয়া বলা হয়। শরীরের অবস্থান অনুযায়ী এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে—যেমন শরীরে হলে টিনিয়া কর্পোরিস, মাথায় হলে টিনিয়া ক্যাপিটিস, কুঁচকিতে টিনিয়া ক্রুরিস এবং পায়ে টিনিয়া পেডিস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র পরিবেশ ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ঘামযুক্ত ও ভেজা ত্বক, বিশেষ করে শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারতে ট্রাইকোফাইটন ইন্ডোটিনিয়া নামের নতুন এক ধরনের ছত্রাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ ওষুধে সহজে সারে না এবং বারবার ফিরে আসে। চিকিৎসকদের মতে, স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিমের অপব্যবহার এই ধরনের সংক্রমণকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরও পড়ুন, রাতের কিছু অভ্যাসেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি
গবেষণা অনুযায়ী, ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ পুরুষ, বিশেষ করে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বকে লাল দাগ, আংটির মতো চিহ্ন, অতিরিক্ত চুলকানি, চামড়া ওঠা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া—এসবই ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সাধারণ উপসর্গ। প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার, ব্যক্তিগত জিনিস ভাগ না করা এবং ভেজা কাপড় দীর্ঘসময় না পরার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন, দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু
অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী আরও বলেন, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিষয় : সতর্কতা গরম ফাঙ্গাল ইনফেকশন

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
দেশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অবহেলা, অপরিষ্কার থাকা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে সাধারণ দাদও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নিতে পারে। চিকিৎসক ও গবেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড–জাতীয় ক্রিম ব্যবহারের কারণে কিছু ছত্রাক ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, যাকে অনেক সময় ‘সুপার ফাঙ্গাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়াকে অবহেলা নয়, হতে পারে ক্যানসারের লক্ষন
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী বলেন, ফাঙ্গাল ইনফেকশন একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা কাপড়, তোয়ালে, বিছানার চাদর বা সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে। তিনি জানান, সাধারণভাবে যাকে দাদ বলা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সেটিকে টিনিয়া বলা হয়। শরীরের অবস্থান অনুযায়ী এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে—যেমন শরীরে হলে টিনিয়া কর্পোরিস, মাথায় হলে টিনিয়া ক্যাপিটিস, কুঁচকিতে টিনিয়া ক্রুরিস এবং পায়ে টিনিয়া পেডিস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র পরিবেশ ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ঘামযুক্ত ও ভেজা ত্বক, বিশেষ করে শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারতে ট্রাইকোফাইটন ইন্ডোটিনিয়া নামের নতুন এক ধরনের ছত্রাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ ওষুধে সহজে সারে না এবং বারবার ফিরে আসে। চিকিৎসকদের মতে, স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিমের অপব্যবহার এই ধরনের সংক্রমণকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরও পড়ুন, রাতের কিছু অভ্যাসেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি
গবেষণা অনুযায়ী, ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ পুরুষ, বিশেষ করে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বকে লাল দাগ, আংটির মতো চিহ্ন, অতিরিক্ত চুলকানি, চামড়া ওঠা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া—এসবই ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সাধারণ উপসর্গ। প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার, ব্যক্তিগত জিনিস ভাগ না করা এবং ভেজা কাপড় দীর্ঘসময় না পরার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন, দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু
অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী আরও বলেন, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আপনার মতামত লিখুন