দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার কাছের লোক : নকলনবিশ কিরণ

আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার কাছের লোক : নকলনবিশ কিরণ
আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার কাছের লোক : নকলনবিশ কিরণ

কাপাসিয়া উপজেলা  সাব রেজিস্ট্রি অফিসে  বদলি থাকলেও কাজ করেন সদর সাব রেজিস্ট্রি ভবনে। এছাড়াও নানান অসংঘহতি  সামনে নিয়ে গাজীপুরের সংবাদ কর্মী সংবাদ প্রকাশ করলে  ফোন করে তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমার নামে আরও বেশি করে নিউজ লিখেন। আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন। দেখি আপনারা কত নিউজ করতে পারেন। এছাড়াও হুমকি দেন।

সরে জমিনে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরের ২৬ নং ওয়ার্ড মারিয়ালি এলাকায় অবস্থিত রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স যেন আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদীপের দৈত্যে ঠাসা। প্রদীপ ঘষলেই নগদ অর্থসহ ফ্ল্যাট-বাড়ি-গাড়ি মেলে এখানে। রেজিস্ট্রি অফিসের ঝাড়ুদার-সুইপার-উমেদার থেকে নকল-নবিশসহ প্রত্যেকেই কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে কেউ কারো থেকে কম নয়। আশ্চর্য্য প্রদীপের সন্ধান পাওয়া তেমনই এক সৌভাগ্যবান মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। যিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন করে গাজীপুর সদর রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ভবনে কাজ করা সকল নকল নবিশদের ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিলেন।

তবে শুরু থেকেই পলাতক স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন ঘুষ বাণিজ্যের জাল বিছিয়ে বরাবরই আলোচনায় আসেন মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। বিগত দিনে নিজের রূপ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন স্থানের কর্মচারী পর্যন্ত কাউকে পরোয়া করতেন না তিনি। আওয়ামীলীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে গড়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকা ও সম্পদের পাহাড়। যা দুদকের অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল।

সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘নো ওয়ার্ক, নো পেমেন্ট’ পদ্ধতিতে চাকরি করা এক্সট্রা মোহরার বা নকল-নবিশরা পাতা প্রতি পান মাত্র ২৪ টাকা। সারাদেশে এমন নকল নবিশের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। সে হিসেবে একজন নকল নবিশের মাসে আয় ১৫/২০ কিংবা ২৫ হাজার টাকার বেশি নয়। বর্তমান বাজারে এই সামান্য টাকায় পরিবার নিয়ে দু’বেলা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই দায়। অথচ সেখানে বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট, প্লটসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক নকল নবিশ মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নকল নবিশ হিসেবে মোসাব্বির আহমেদ কিরণকে বদলী করা হলেও তিনি কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে না গিয়ে প্রতিদিন গাজীপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে দলিল সম্পাদনের কাজ করে থাকেন। সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের সেবা কেন্দ্রকে বানিয়ে নিয়েছেন নিজের ব্যক্তিগত অফিস। সেখানে বসেই দলিল সম্পাদন, খাজনা আদায়ের রশিদ ছাড়া দলিল করা, গৃহায়নের সেল পারমিশন বহিভূর্ত ফ্ল্যাটের দলিল , দলিলে ফিস দাগানোর নামে অবৈধ আয়ের টাকায় তিনি আজ কয়েক কোটি টাকার মালিক। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিনই সদর সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের খাস কমড়ায় তাকে আসা যাওয়া করতে দেখা যায়। যার একটি ভিডিও চিত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে কাপাসিয়া ও গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গোপন তথ্য ফাঁস করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় গণভোটের প্রচারণা গ্রাম ও জেলা শহরে, গণভোট কি জানেন না শ্রমিক-গ্রামের ভোটাররা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, গাজীপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ধীর্ঘ দিন থেকেই একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। ওই সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী মারিয়ালীর এলাকার বাসিন্দা মুসাব্বির আহাম্মেদ কিরন বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষের এজেন্ট হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, কিরণের মত লোকদের কারণে গাজীপুর সাব-বেজিষ্ট্রার অফিসের মত সরকারের বৃহৎ রাজস্ব ক্ষাত দিন দিন ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জনের মূল্যবান সম্পত্তি তথ্য ও দলিল নিয়ে নানা হয়রানি স্বীকার ও অর্থদ- ভুগাচ্ছে।  তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা।  

বিষয় : গাজীপুর কিরণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার কাছের লোক : নকলনবিশ কিরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

কাপাসিয়া উপজেলা  সাব রেজিস্ট্রি অফিসে  বদলি থাকলেও কাজ করেন সদর সাব রেজিস্ট্রি ভবনে। এছাড়াও নানান অসংঘহতি  সামনে নিয়ে গাজীপুরের সংবাদ কর্মী সংবাদ প্রকাশ করলে  ফোন করে তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমার নামে আরও বেশি করে নিউজ লিখেন। আমি আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন। দেখি আপনারা কত নিউজ করতে পারেন। এছাড়াও হুমকি দেন।

সরে জমিনে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরের ২৬ নং ওয়ার্ড মারিয়ালি এলাকায় অবস্থিত রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স যেন আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদীপের দৈত্যে ঠাসা। প্রদীপ ঘষলেই নগদ অর্থসহ ফ্ল্যাট-বাড়ি-গাড়ি মেলে এখানে। রেজিস্ট্রি অফিসের ঝাড়ুদার-সুইপার-উমেদার থেকে নকল-নবিশসহ প্রত্যেকেই কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে কেউ কারো থেকে কম নয়। আশ্চর্য্য প্রদীপের সন্ধান পাওয়া তেমনই এক সৌভাগ্যবান মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। যিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন করে গাজীপুর সদর রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ভবনে কাজ করা সকল নকল নবিশদের ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিলেন।

তবে শুরু থেকেই পলাতক স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন ঘুষ বাণিজ্যের জাল বিছিয়ে বরাবরই আলোচনায় আসেন মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। বিগত দিনে নিজের রূপ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন স্থানের কর্মচারী পর্যন্ত কাউকে পরোয়া করতেন না তিনি। আওয়ামীলীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে গড়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকা ও সম্পদের পাহাড়। যা দুদকের অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল।

সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘নো ওয়ার্ক, নো পেমেন্ট’ পদ্ধতিতে চাকরি করা এক্সট্রা মোহরার বা নকল-নবিশরা পাতা প্রতি পান মাত্র ২৪ টাকা। সারাদেশে এমন নকল নবিশের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। সে হিসেবে একজন নকল নবিশের মাসে আয় ১৫/২০ কিংবা ২৫ হাজার টাকার বেশি নয়। বর্তমান বাজারে এই সামান্য টাকায় পরিবার নিয়ে দু’বেলা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই দায়। অথচ সেখানে বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট, প্লটসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক নকল নবিশ মোসাব্বির আহমেদ কিরণ। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নকল নবিশ হিসেবে মোসাব্বির আহমেদ কিরণকে বদলী করা হলেও তিনি কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে না গিয়ে প্রতিদিন গাজীপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে দলিল সম্পাদনের কাজ করে থাকেন। সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের সেবা কেন্দ্রকে বানিয়ে নিয়েছেন নিজের ব্যক্তিগত অফিস। সেখানে বসেই দলিল সম্পাদন, খাজনা আদায়ের রশিদ ছাড়া দলিল করা, গৃহায়নের সেল পারমিশন বহিভূর্ত ফ্ল্যাটের দলিল , দলিলে ফিস দাগানোর নামে অবৈধ আয়ের টাকায় তিনি আজ কয়েক কোটি টাকার মালিক। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিনই সদর সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের খাস কমড়ায় তাকে আসা যাওয়া করতে দেখা যায়। যার একটি ভিডিও চিত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে কাপাসিয়া ও গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গোপন তথ্য ফাঁস করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় গণভোটের প্রচারণা গ্রাম ও জেলা শহরে, গণভোট কি জানেন না শ্রমিক-গ্রামের ভোটাররা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, গাজীপুর সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ধীর্ঘ দিন থেকেই একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। ওই সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী মারিয়ালীর এলাকার বাসিন্দা মুসাব্বির আহাম্মেদ কিরন বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষের এজেন্ট হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, কিরণের মত লোকদের কারণে গাজীপুর সাব-বেজিষ্ট্রার অফিসের মত সরকারের বৃহৎ রাজস্ব ক্ষাত দিন দিন ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জনের মূল্যবান সম্পত্তি তথ্য ও দলিল নিয়ে নানা হয়রানি স্বীকার ও অর্থদ- ভুগাচ্ছে।  তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা।  


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত