যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় আস্থার সংকট চরমে: নেগার মরতাজাভি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন নেগার মরতাজাভি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Center for International Policy-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরতাজাভি বলেন, ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘন, আলোচনার মাঝেই সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।আরও পড়ুন, পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় উদযাপনে প্যারিসে সংঘর্ষতিনি জানান, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় তারা বারবার একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, আলোচনার টেবিলে বসলেও সবসময় আশঙ্কা থাকে যে যেকোনো সময় নতুন কোনো সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। মরতাজাভির মতে, ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য। এর মধ্যে ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানি-কে হত্যার ঘটনা, পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে পরিচালিত সামরিক অভিযান এবং বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো রাজনৈতিক অর্জন হয়নি। একই সঙ্গে আলোচনার শর্ত ও লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় পারস্পরিক আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মরতাজাভি অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে উপস্থাপন করা হয়। তার মতে, এ ধরনের প্রতীকী ও উসকানিমূলক বার্তা কূটনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে।আরও পড়ুন, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা চরমে, ঘেরাওয়ের মুখে নাবাতিয়েহতিনি বলেন, একজন ইরানি আলোচক বা নীতিনির্ধারকের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন বার্তা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে না; বরং সন্দেহ ও অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে তেহরানে এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে যে, পরবর্তী সরকারি বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কী আসে, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে এলো বিপর্যয়, ধসে পড়ল বাণিজ্যিক ভবন
নেগার মরতাজাভির মতে, এই সংকট শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। তার মতে, চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বৈশ্বিক সম্পর্ক ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।