বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে মব সৃষ্টি করে অপহরণের শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক কর্মকর্তা মো: আব্দুল বাতেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল বাতেন জানান, তিনি গত ২৪ মে ও ৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে নুরনাহার ও লিপি নামের দুই বোনের কাছ থেকে বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ মসজিদ গেটের অপর পাশে অবস্থিত একটি জমি ক্রয়ের লক্ষ্যে বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জমিটির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিযুক্ত নুরনাহার ও লিপি অধিক লাভের আশায় একই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে তারা মো. আব্দুল বাতেনকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা বায়না বাবদ গ্রহণকৃত অর্থ ফেরত দিতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানান।
এ অবস্থায় ন্যায়বিচার পেতে মো. আব্দুল বাতেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্ত দুই বোনের বিরুদ্ধে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ইস্যুর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তদের সহযোগী একটি সংঘবদ্ধ চক্র বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে মব তৈরি করে মো: আব্দুল বাতেনকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। অপহরণের পর তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তাকে প্রথমে বরিশাল বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওসি উপস্থিত না থাকায় তাকে পুনরায় বরিশাল মডেল কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত করে একটি শ্রমিক লীগের ভুয়া সদস্যপত্র তৈরি করে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়।
আরও পড়ুন, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন রায়পুরা সাংবাদিক ফোরাম
এ ঘটনায় তার আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে এটিকে একটি মিথ্যা, সাজানো ও প্রতারণামূলক মামলা হিসেবে বিবেচনা করেন। আদালত মো. আব্দুল বাতেনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাকে নির্দেশনা দেন আদালত।
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল বাতেন দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে মব সৃষ্টি করে অপহরণের শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক কর্মকর্তা মো: আব্দুল বাতেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল বাতেন জানান, তিনি গত ২৪ মে ও ৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে নুরনাহার ও লিপি নামের দুই বোনের কাছ থেকে বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ মসজিদ গেটের অপর পাশে অবস্থিত একটি জমি ক্রয়ের লক্ষ্যে বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জমিটির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই অভিযুক্ত নুরনাহার ও লিপি অধিক লাভের আশায় একই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে তারা মো. আব্দুল বাতেনকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা বায়না বাবদ গ্রহণকৃত অর্থ ফেরত দিতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানান।
এ অবস্থায় ন্যায়বিচার পেতে মো. আব্দুল বাতেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্ত দুই বোনের বিরুদ্ধে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ইস্যুর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তদের সহযোগী একটি সংঘবদ্ধ চক্র বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে মব তৈরি করে মো: আব্দুল বাতেনকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। অপহরণের পর তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তাকে প্রথমে বরিশাল বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওসি উপস্থিত না থাকায় তাকে পুনরায় বরিশাল মডেল কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত করে একটি শ্রমিক লীগের ভুয়া সদস্যপত্র তৈরি করে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়।
আরও পড়ুন, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন রায়পুরা সাংবাদিক ফোরাম
এ ঘটনায় তার আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে এটিকে একটি মিথ্যা, সাজানো ও প্রতারণামূলক মামলা হিসেবে বিবেচনা করেন। আদালত মো. আব্দুল বাতেনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানাকে নির্দেশনা দেন আদালত।
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল বাতেন দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন