যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান দল। ভোটের ফলাফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একচ্ছত্র ক্ষমতায় লাগাম টানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রক্তপাত বা সংঘাত ছাড়াই ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্যে এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা একধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনে ট্রাম্পের নাম সরাসরি ব্যালটে না থাকলেও ভোটের আগে তিনি সমর্থকদের নিজের শাসনামলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটারদের বড় অংশ তাঁর নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের এ জয়কে অনেকেই ‘নীল ঢেউ’ নয়, বরং ‘সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের শাসনামলের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক চাপ ছিল ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যযুদ্ধ ও আমদানি শুল্কের প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন, সরকারের নীতির কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। অভিবাসন নীতিও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত কঠোরতা, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন, ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনায় নতুন বার্তা ট্রাম্পের
বিশেষ করে হিস্পানিক ভোটারদের একটি অংশ এবার রিপাবলিকানদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইদ। নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক ও বিরোধিতা থাকলেও তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর বিজয়কে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি যুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার সুযোগ পাবে বিরোধী দল। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া। এ নির্বাচনে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার নির্মাণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক শক্তি ও নীতির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তবে এই ফল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে কতটা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে, তা নির্ভর করবে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম ও আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান দল। ভোটের ফলাফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একচ্ছত্র ক্ষমতায় লাগাম টানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রক্তপাত বা সংঘাত ছাড়াই ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্যে এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা একধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনে ট্রাম্পের নাম সরাসরি ব্যালটে না থাকলেও ভোটের আগে তিনি সমর্থকদের নিজের শাসনামলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটারদের বড় অংশ তাঁর নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের এ জয়কে অনেকেই ‘নীল ঢেউ’ নয়, বরং ‘সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের শাসনামলের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক চাপ ছিল ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যযুদ্ধ ও আমদানি শুল্কের প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন, সরকারের নীতির কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। অভিবাসন নীতিও নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত কঠোরতা, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন, ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনায় নতুন বার্তা ট্রাম্পের
বিশেষ করে হিস্পানিক ভোটারদের একটি অংশ এবার রিপাবলিকানদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইদ। নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক ও বিরোধিতা থাকলেও তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর বিজয়কে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি যুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার সুযোগ পাবে বিরোধী দল। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া। এ নির্বাচনে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার নির্মাণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক শক্তি ও নীতির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তবে এই ফল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে কতটা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে, তা নির্ভর করবে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম ও আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
