দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গঙ্গাচড়ায় গণপিটুনিতে দুই মৃত্যু, ৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

গঙ্গাচড়ায় গণপিটুনিতে দুই মৃত্যু, ৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
গণপিটুনিতে দুই মৃত্যু

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়া বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর। ‎নিহত ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা রেজাউল (৫০) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)। ‎‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন স্থানীয়রা। সোহেল ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটি ফেলে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন,নগর পুনরুজ্জীবনে বস্তিবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতের দাবি সাতক্ষীরায়

পরে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। ‎অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল জানান, ভোরে তাঁর অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকেও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লিরা বেরিয়ে আসেন। পরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা ধাওয়া করেন। পরে তিনি দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পান।‎‎নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, রেজাউল আগে থেকেই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানেন। ‎‎অন্যদিকে, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান জানান, সাদিকুল আগে মাদক সেবন করতেন। ছেলেকে ভালো পথে ফেরাতে তাঁর বাবা অনেক চেষ্টা করেছিলেন। সাদিকুলের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে। ‎‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়ার করা হত্যা মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও জানান, রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। তবে গণপিটুনিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয় : হত্যা মামলা গণপিটুনিতে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় গণপিটুনিতে দুই মৃত্যু, ৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়া বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর। ‎নিহত ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা রেজাউল (৫০) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)। ‎‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন স্থানীয়রা। সোহেল ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটি ফেলে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন,নগর পুনরুজ্জীবনে বস্তিবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতের দাবি সাতক্ষীরায়

পরে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। ‎অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল জানান, ভোরে তাঁর অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকেও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লিরা বেরিয়ে আসেন। পরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা ধাওয়া করেন। পরে তিনি দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পান।‎‎নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, রেজাউল আগে থেকেই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানেন। ‎‎অন্যদিকে, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান জানান, সাদিকুল আগে মাদক সেবন করতেন। ছেলেকে ভালো পথে ফেরাতে তাঁর বাবা অনেক চেষ্টা করেছিলেন। সাদিকুলের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে। ‎‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়ার করা হত্যা মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আরও জানান, রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। তবে গণপিটুনিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গঙ্গাচড়ায় গণপিটুনিতে দুই মৃত্যু, ৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
0:00 0:00
1.0x