রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে তাদের নানামুখী হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে জনসেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (এডি) মো. জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব দালাল পরীক্ষার্থী ও সেবাপ্রার্থীদের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানকারীরা বিশেষ সুবিধা পেলেও সাধারণ আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রবেশের পর থেকেই দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ে। তারা বিভিন্নভাবে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং নির্ধারিত নিয়মে কাজ সম্পন্ন করতে গেলে জটিলতার মুখে পড়তে হবে বলে ভয় দেখায়। পরে দ্রুত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ এ প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তার আবেদন বা ফাইলের অগ্রগতিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী বলেন, লাইসেন্স পরীক্ষার দিনও অনেককে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু অসাধু ব্যক্তি পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
আরও পড়ুন, পাটওয়ারীর ওপর হামলায় বিএনপির সম্পৃক্ততা নেই: রাশেদ খাঁন
সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরির জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। কারণ, লাইসেন্স প্রদানের সঙ্গে সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা জড়িত। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এদিকে অভিযোগের তীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকেও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগের উৎস ও বাস্তবতা উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তারা বলেন, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা দালালচক্রের প্রভাব মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিআরটিএকে দালালমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই ন্যায্য ও দ্রুত সেবা পেতে পারেন।
বিষয় : অনিয়ম সড়ক পরিবহন ড্রাইভিং লাইসেন্স

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর খিলক্ষেতে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে তাদের নানামুখী হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে জনসেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (এডি) মো. জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব দালাল পরীক্ষার্থী ও সেবাপ্রার্থীদের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানকারীরা বিশেষ সুবিধা পেলেও সাধারণ আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রবেশের পর থেকেই দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ে। তারা বিভিন্নভাবে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং নির্ধারিত নিয়মে কাজ সম্পন্ন করতে গেলে জটিলতার মুখে পড়তে হবে বলে ভয় দেখায়। পরে দ্রুত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ এ প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তার আবেদন বা ফাইলের অগ্রগতিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী বলেন, লাইসেন্স পরীক্ষার দিনও অনেককে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কিছু অসাধু ব্যক্তি পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
আরও পড়ুন, পাটওয়ারীর ওপর হামলায় বিএনপির সম্পৃক্ততা নেই: রাশেদ খাঁন
সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরির জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। কারণ, লাইসেন্স প্রদানের সঙ্গে সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা জড়িত। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এদিকে অভিযোগের তীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকেও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগের উৎস ও বাস্তবতা উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তারা বলেন, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা দালালচক্রের প্রভাব মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিআরটিএকে দালালমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই ন্যায্য ও দ্রুত সেবা পেতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন