আইফোন ও টিকটককে কেন্দ্র করে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। এরপর দামি ফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার লোভে আগেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়কুমিল্লার ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আদালতে দেওয়া তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে পরিচয় ছিল ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের। ছবি তোলা ও টিকটক তৈরির জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো। একপর্যায়ে অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তুহিন ও তার পরিচিত এক কিশোরের লোভ তৈরি হয়। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফোনটি নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় গল্প ও আড্ডার পর অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া হয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তুহিনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।তিন আসামির জবানবন্দিতে ঘটনাক্রমের কিছু পার্থক্য থাকলেও অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করার বিষয়ে মিল রয়েছে।
আরও পড়ুন : লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১০০
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন এবং পরে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর অন্য দুজনকেও মারধরে অংশ নিতে বলা হয়।জবানবন্দিতে আরও দাবি করা হয়েছে, আইফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা ছিল। হত্যার পর ফোনটি তুহিনের কাছেই ছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে।অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।২০ সেপ্টেম্বর তুহিনসহ দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জবানবন্দির তথ্য অন্যান্য আলামত ও তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি মামলার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পরই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বিষয় : পরিকল্পনা আইফোন অপ্রতিম হত্যা

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইফোন ও টিকটককে কেন্দ্র করে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। এরপর দামি ফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার লোভে আগেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়কুমিল্লার ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আদালতে দেওয়া তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে পরিচয় ছিল ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের। ছবি তোলা ও টিকটক তৈরির জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো। একপর্যায়ে অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তুহিন ও তার পরিচিত এক কিশোরের লোভ তৈরি হয়। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফোনটি নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় গল্প ও আড্ডার পর অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া হয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তুহিনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।তিন আসামির জবানবন্দিতে ঘটনাক্রমের কিছু পার্থক্য থাকলেও অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করার বিষয়ে মিল রয়েছে।
আরও পড়ুন : লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১০০
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন এবং পরে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর অন্য দুজনকেও মারধরে অংশ নিতে বলা হয়।জবানবন্দিতে আরও দাবি করা হয়েছে, আইফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা ছিল। হত্যার পর ফোনটি তুহিনের কাছেই ছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে।অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।২০ সেপ্টেম্বর তুহিনসহ দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জবানবন্দির তথ্য অন্যান্য আলামত ও তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি মামলার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পরই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন