দেশের পুঁজিবাজারের আকার দিন দিন বড় হচ্ছে। তবে এই আকার বৃদ্ধির বড় অংশ আসছে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি কিংবা শেয়ারবাজারের সম্প্রসারণ থেকে নয়। বরং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের বড় উপস্থিতিতে কাগজে-কলমে বাড়ছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আকার।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই শেষে ডিএসইর মোট ইস্যুকৃত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের অংশ ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ ডিএসইর ইস্যুকৃত মূলধনের প্রায় ৭৭ শতাংশই সরকারি বন্ডের।শুধু ইস্যুকৃত মূলধন নয়, বাজার মূলধনেও সরকারি বন্ডের বড় উপস্থিতি রয়েছে। জুলাই শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের অংশ ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।ডিএসইতে জুলাই শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ছিল ৬৩৮টি। এর মধ্যে ৩৬০টি কোম্পানি, ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ড, ২১৯টি সরকারি বন্ড, ৮টি ডিবেঞ্চার এবং ১৬টি করপোরেট বন্ড।
আরও পড়ুন, সোনার দাম আবারও বাড়ল ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট মূল্য দিয়ে পুঁজিবাজারের গভীরতা বিচার করা যায় না। নিয়মিত লেনদেন, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ, বাজারে তারল্য এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের কার্যকর লেনদেনও গুরুত্বপূর্ণ।পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান মাজেদুল হক বলেন, সরকারি বন্ডের বড় উপস্থিতি বাজারের আকার বাড়িয়ে দেখালেও প্রকৃত বাজার গভীরতা ও লেনদেন সক্ষমতা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, সরকারি বন্ডও পুঁজিবাজারের অংশ। তাই এর উপস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কারণ নেই। তবে বাজারের গভীরতা বাড়াতে আরও প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।এদিকে জুলাই শেষে জিডিপির বিপরীতে ডিএসইর বাজার মূলধনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। জুনে যা ছিল ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে এক বছর আগে জুলাইয়ে এ অনুপাত ছিল ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
বিষয় : পুঁজিবাজার বড় অংশ ইস্যুকৃত মূলধন

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের পুঁজিবাজারের আকার দিন দিন বড় হচ্ছে। তবে এই আকার বৃদ্ধির বড় অংশ আসছে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি কিংবা শেয়ারবাজারের সম্প্রসারণ থেকে নয়। বরং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের বড় উপস্থিতিতে কাগজে-কলমে বাড়ছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আকার।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই শেষে ডিএসইর মোট ইস্যুকৃত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের অংশ ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ ডিএসইর ইস্যুকৃত মূলধনের প্রায় ৭৭ শতাংশই সরকারি বন্ডের।শুধু ইস্যুকৃত মূলধন নয়, বাজার মূলধনেও সরকারি বন্ডের বড় উপস্থিতি রয়েছে। জুলাই শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের অংশ ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।ডিএসইতে জুলাই শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ছিল ৬৩৮টি। এর মধ্যে ৩৬০টি কোম্পানি, ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ড, ২১৯টি সরকারি বন্ড, ৮টি ডিবেঞ্চার এবং ১৬টি করপোরেট বন্ড।
আরও পড়ুন, সোনার দাম আবারও বাড়ল ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট মূল্য দিয়ে পুঁজিবাজারের গভীরতা বিচার করা যায় না। নিয়মিত লেনদেন, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ, বাজারে তারল্য এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের কার্যকর লেনদেনও গুরুত্বপূর্ণ।পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান মাজেদুল হক বলেন, সরকারি বন্ডের বড় উপস্থিতি বাজারের আকার বাড়িয়ে দেখালেও প্রকৃত বাজার গভীরতা ও লেনদেন সক্ষমতা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, সরকারি বন্ডও পুঁজিবাজারের অংশ। তাই এর উপস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কারণ নেই। তবে বাজারের গভীরতা বাড়াতে আরও প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।এদিকে জুলাই শেষে জিডিপির বিপরীতে ডিএসইর বাজার মূলধনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। জুনে যা ছিল ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে এক বছর আগে জুলাইয়ে এ অনুপাত ছিল ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন