আজ থেকে ২৪ বছর আগে ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দিনের সন্ধ্যা সাতটার পর সাতক্ষীরায় গুড়পুকুর মেলা চলাকালে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে শহরের রক্সি সিনেমা হলে এবং সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের দি লায়ন সার্কাস প্যান্ডলে পর পর দু’টি শক্তিশালী বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই বোমা হামলায় সাতক্ষীরা সদরের লাবসা (হাফেজপাড়া) মোকারম হোসেনের ছেলে স্কুল ছাত্র কাজী মেফতাউল আলম মুক্ত (১৫), জেলার দেবহাটার চকমোহাম্মদআলী গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে হাফিজুল ইসলাম পিন্টু (২৫) ও শহরের ইটাগাছার ডাক্তার আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ডাক্তার সেলিনা পারভীন (৩০) নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মূল রহস্য জানতে পারেনি সাতক্ষীরাবাসী।২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার পরপরই মেলা চলকালীন রক্সি সিনেমা হল ও সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে দি লায়ন সার্কাস প্যান্ডেলে ১১ মিনিটের ব্যবধানে পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়।
আরও পড়ুন, আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এক কিশোরের লাশ
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, রক্সি সিনেমা হলে এবং স্টেডিয়ামে লায়ন সার্কাসে বোমা হামলার ঘটনায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরার গোয়েন্দা, অপরাধ ও তদন্ত সংস্থার পুলিশ পরিদর্শক দুর্গাপদ ঘোষ ও সুখরঞ্জন সমাদ্দার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তে খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার মাওলা বক্স ২০০৪ সালের শেষের দিকে আদালতে এ দু’টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে মামলার দু’টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।এদিকে, ২০০৬ সালে টাঙ্গাইলে একটি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় জেএমবি’র বোমারু মিজান, হাফেজ আব্দুর রাকিব ও শায়খ সাইফুল ইসলাম।
তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমানের নির্দেশে তারা ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় বোমা হামলা চালায় বলে স্বীকার করে। ফলে ২০০৬ সালে মামলাটি আবারো প্রাণ ফিরে পায়। গোয়েন্দা, অপরাধ ও তদন্ত শাখা আবারও তদন্তকালে দেবহাটার শিমুলিয়া গ্রামের মুজিবর রহমান ঘরামীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। যদিও পরে উত্তরাস্থ র্যাব-১ অন্য একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে গুড়পুকুরের মেলায় বোমা হামলায় মুজিবর রহমান ঘরামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আমির হোসেন আমু সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলা মামলায় বোমারু মিজান ও হাফেজ আব্দুর রাকিবের নামে আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য ও পেনাল কোর্ড আইনে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যদিও অভিযোগ দাখিলের কয়েক মাস আগে মীর্জাপুরে পুলিশের গাড়ি থেকে বোমারু মিজান ও হাফেজ রাকিবকে জেএমবি ছিনিয়ে নেয়। পরে বোমারু মিজানকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাফেজ আব্দুর রাকিব মারা যায়।
আরও পড়ুন, জলমহাল দখলের অভিযোগের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর '২৬) সকালে শহরের পলাশপোলের গুড়পুকুর পাড়ের বটতলা মনসাতলায় মনসাতলা মন্দির কমিটির আয়োজনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা ধর্মীয় রীতি অনুসারে মায়ের কৃপা ও দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনায় প্রার্থনায় মিলিত হন। পূজার দায়িত্বে থাকা পুরোহিত তাপস চক্রবর্তী বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় শত শত বছর ধরে এখানে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অলংকার ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে মা মনসা ও বিশ্বকর্মার কৃপা লাভে শত শত মানুষ এখানে সমবেত হন।এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০১১ সালে সীমিত আকারে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে প্রতি বছর সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সীমিত আকারে হলেও ২৪ সাল থেকে মেলা বন্ধ হওয়ায় বিনোদনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই গুড়পুকুরের মেলা তার নিজস্ব প্রাঙ্গণে পূর্ণ জৌলুস নিয়ে ফিরুক এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী সচেতন মহলের।
বিষয় : হামলার রহস্য পুকুর মেলা উদঘাটন

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ থেকে ২৪ বছর আগে ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দিনের সন্ধ্যা সাতটার পর সাতক্ষীরায় গুড়পুকুর মেলা চলাকালে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে শহরের রক্সি সিনেমা হলে এবং সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের দি লায়ন সার্কাস প্যান্ডলে পর পর দু’টি শক্তিশালী বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই বোমা হামলায় সাতক্ষীরা সদরের লাবসা (হাফেজপাড়া) মোকারম হোসেনের ছেলে স্কুল ছাত্র কাজী মেফতাউল আলম মুক্ত (১৫), জেলার দেবহাটার চকমোহাম্মদআলী গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে হাফিজুল ইসলাম পিন্টু (২৫) ও শহরের ইটাগাছার ডাক্তার আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ডাক্তার সেলিনা পারভীন (৩০) নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মূল রহস্য জানতে পারেনি সাতক্ষীরাবাসী।২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার পরপরই মেলা চলকালীন রক্সি সিনেমা হল ও সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে দি লায়ন সার্কাস প্যান্ডেলে ১১ মিনিটের ব্যবধানে পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়।
আরও পড়ুন, আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এক কিশোরের লাশ
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, রক্সি সিনেমা হলে এবং স্টেডিয়ামে লায়ন সার্কাসে বোমা হামলার ঘটনায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরার গোয়েন্দা, অপরাধ ও তদন্ত সংস্থার পুলিশ পরিদর্শক দুর্গাপদ ঘোষ ও সুখরঞ্জন সমাদ্দার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তে খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার মাওলা বক্স ২০০৪ সালের শেষের দিকে আদালতে এ দু’টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে মামলার দু’টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।এদিকে, ২০০৬ সালে টাঙ্গাইলে একটি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় জেএমবি’র বোমারু মিজান, হাফেজ আব্দুর রাকিব ও শায়খ সাইফুল ইসলাম।
তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমানের নির্দেশে তারা ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় বোমা হামলা চালায় বলে স্বীকার করে। ফলে ২০০৬ সালে মামলাটি আবারো প্রাণ ফিরে পায়। গোয়েন্দা, অপরাধ ও তদন্ত শাখা আবারও তদন্তকালে দেবহাটার শিমুলিয়া গ্রামের মুজিবর রহমান ঘরামীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। যদিও পরে উত্তরাস্থ র্যাব-১ অন্য একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে গুড়পুকুরের মেলায় বোমা হামলায় মুজিবর রহমান ঘরামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আমির হোসেন আমু সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলা মামলায় বোমারু মিজান ও হাফেজ আব্দুর রাকিবের নামে আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য ও পেনাল কোর্ড আইনে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যদিও অভিযোগ দাখিলের কয়েক মাস আগে মীর্জাপুরে পুলিশের গাড়ি থেকে বোমারু মিজান ও হাফেজ রাকিবকে জেএমবি ছিনিয়ে নেয়। পরে বোমারু মিজানকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাফেজ আব্দুর রাকিব মারা যায়।
আরও পড়ুন, জলমহাল দখলের অভিযোগের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সভা
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর '২৬) সকালে শহরের পলাশপোলের গুড়পুকুর পাড়ের বটতলা মনসাতলায় মনসাতলা মন্দির কমিটির আয়োজনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা ধর্মীয় রীতি অনুসারে মায়ের কৃপা ও দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনায় প্রার্থনায় মিলিত হন। পূজার দায়িত্বে থাকা পুরোহিত তাপস চক্রবর্তী বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় শত শত বছর ধরে এখানে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অলংকার ও শিল্পকলার দেবী হিসেবে মা মনসা ও বিশ্বকর্মার কৃপা লাভে শত শত মানুষ এখানে সমবেত হন।এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০১১ সালে সীমিত আকারে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে প্রতি বছর সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সীমিত আকারে হলেও ২৪ সাল থেকে মেলা বন্ধ হওয়ায় বিনোদনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই গুড়পুকুরের মেলা তার নিজস্ব প্রাঙ্গণে পূর্ণ জৌলুস নিয়ে ফিরুক এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী সচেতন মহলের।

আপনার মতামত লিখুন