দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

সবুজ বন এখন গণকবর: নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি

সবুজ বন এখন গণকবর: নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি
সবুজ বন এখন গণকবর

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন। কয়েক দিন আগেও ছিল সবুজে ঘেরা নিরিবিলি এক স্থান। এখন সেই বনেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী গণকবর। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন মরদেহ একের পর এক দাফন করা হচ্ছে সেখানে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে মরদেহ। কিন্তু অনেক মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শনিবার দেবঘাট বনে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা ছিল।মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও কর্মকর্তা। ছবি ও তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনাও নেওয়া হচ্ছে। কবরের অবস্থানও রাখা হচ্ছে নথিভুক্ত। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্ত হলে দেহাবশেষ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।এ কাজে নেপালের সঙ্গে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। ভারত ইতোমধ্যে ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে।

আরও  পড়ুন,বন্যায় সব হারিয়ে এবার ওষুধ-পানির সংকটে নেপালের আশ্রয়শিবিরে হাজারো মানুষ

এদিকে চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গেও ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে। প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতার বিপরীতে সেখানে ছিল প্রায় ১২৫টি মরদেহ। উদ্ধার করা অর্ধেকের বেশি মরদেহ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারের বাইরে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও সঙ্গে লাগেজ—শুধু অপেক্ষা, যদি উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে পাওয়া যায় প্রিয়জনকে।এরই মধ্যে চলছে উদ্ধার অভিযান। নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে নতুন মরদেহ। আর প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে বাড়ছে কোনো না কোনো পরিবারের অপেক্ষা।গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। এতে শত শত মানুষ নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

বিষয় : নেপালে গণকবর সবুজ বন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


সবুজ বন এখন গণকবর: নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন। কয়েক দিন আগেও ছিল সবুজে ঘেরা নিরিবিলি এক স্থান। এখন সেই বনেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী গণকবর। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন মরদেহ একের পর এক দাফন করা হচ্ছে সেখানে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে মরদেহ। কিন্তু অনেক মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শনিবার দেবঘাট বনে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা ছিল।মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও কর্মকর্তা। ছবি ও তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনাও নেওয়া হচ্ছে। কবরের অবস্থানও রাখা হচ্ছে নথিভুক্ত। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্ত হলে দেহাবশেষ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।এ কাজে নেপালের সঙ্গে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। ভারত ইতোমধ্যে ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে।

আরও  পড়ুন,বন্যায় সব হারিয়ে এবার ওষুধ-পানির সংকটে নেপালের আশ্রয়শিবিরে হাজারো মানুষ

এদিকে চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গেও ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে। প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতার বিপরীতে সেখানে ছিল প্রায় ১২৫টি মরদেহ। উদ্ধার করা অর্ধেকের বেশি মরদেহ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারের বাইরে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও সঙ্গে লাগেজ—শুধু অপেক্ষা, যদি উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে পাওয়া যায় প্রিয়জনকে।এরই মধ্যে চলছে উদ্ধার অভিযান। নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে নতুন মরদেহ। আর প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে বাড়ছে কোনো না কোনো পরিবারের অপেক্ষা।গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। এতে শত শত মানুষ নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত