নিরাপদ বিনিয়োগের কথা ভাবলে অনেকেরই প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিয়মিত আয়েরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।তবে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিয়ম-কানুন, মেয়াদ, মুনাফা ও কর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও মিলতে পারে। এমনকি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে প্রথমেই যে ভুলটি এড়াতে হবে, তা হলো জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন টাকা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আটকে রাখা। চিকিৎসা, আপৎকালীন খরচ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থ সঞ্চয়পত্রে না রাখাই ভালো।দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের সীমা ও বর্তমান নিয়ম না জেনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস, মালিকানা ও করসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।
আরও পড়ুন, অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্র
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর। সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর প্রযোজ্য। তাই নিজের কর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য করের নিয়ম না জেনে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা কমে যেতে পারে।চতুর্থত, শুধু বেশি মুনাফার হার দেখে স্কিম নির্বাচন করাও ভুল। কারও নিয়মিত আয় প্রয়োজন, আবার কেউ মেয়াদ শেষে একসঙ্গে অর্থ পেতে চান। তাই নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের ধরন বেছে নিতে হবে।আর পঞ্চম ভুল হলো, নিজের সব সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ করা। জরুরি খরচের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ রাখার পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি।তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, বিনিয়োগসীমা, কর এবং আগাম ভাঙানোর নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিন। শুধু নিরাপদ মনে হচ্ছে বলেই সব সঞ্চয় এক জায়গায় না রেখে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পিত বিনিয়োগই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিষয় : সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ বিনিয়োগের কথা ভাবলে অনেকেরই প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিয়মিত আয়েরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।তবে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিয়ম-কানুন, মেয়াদ, মুনাফা ও কর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও মিলতে পারে। এমনকি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে প্রথমেই যে ভুলটি এড়াতে হবে, তা হলো জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন টাকা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আটকে রাখা। চিকিৎসা, আপৎকালীন খরচ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থ সঞ্চয়পত্রে না রাখাই ভালো।দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের সীমা ও বর্তমান নিয়ম না জেনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস, মালিকানা ও করসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।
আরও পড়ুন, অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্র
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর। সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর প্রযোজ্য। তাই নিজের কর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য করের নিয়ম না জেনে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা কমে যেতে পারে।চতুর্থত, শুধু বেশি মুনাফার হার দেখে স্কিম নির্বাচন করাও ভুল। কারও নিয়মিত আয় প্রয়োজন, আবার কেউ মেয়াদ শেষে একসঙ্গে অর্থ পেতে চান। তাই নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের ধরন বেছে নিতে হবে।আর পঞ্চম ভুল হলো, নিজের সব সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ করা। জরুরি খরচের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ রাখার পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি।তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, বিনিয়োগসীমা, কর এবং আগাম ভাঙানোর নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিন। শুধু নিরাপদ মনে হচ্ছে বলেই সব সঞ্চয় এক জায়গায় না রেখে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পিত বিনিয়োগই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার মতামত লিখুন