দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্র

অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্র
দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর। যুদ্ধ না হলে চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের দুর্বলতা ও মানুষের আয় না বাড়ায় এরই মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায়নি।এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানির অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশের গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

আরও  পড়ুন, আইএমএফের পূর্বাভাস: ২০৩০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার

অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে।জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সার উৎপাদনেও পড়ছে প্রভাব। সংকট দীর্ঘ হলে দেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের।এদিকে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়বে। বাড়তে পারে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।সব মিলিয়ে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

বিষয় : মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাংক নতুন দরিদ্র

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্র

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর। যুদ্ধ না হলে চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের দুর্বলতা ও মানুষের আয় না বাড়ায় এরই মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায়নি।এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানির অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশের গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে।

আরও  পড়ুন, আইএমএফের পূর্বাভাস: ২০৩০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার

অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে।জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সার উৎপাদনেও পড়ছে প্রভাব। সংকট দীর্ঘ হলে দেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের।এদিকে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়বে। বাড়তে পারে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।সব মিলিয়ে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত