দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পাঁচবিবিতে জলাবদ্ধতার অবসান, কৃষকদের মুখে হাসি

পাঁচবিবিতে জলাবদ্ধতার অবসান, কৃষকদের মুখে হাসি
জলাবদ্ধতার অবসান, কৃষকদের মুখে হাসি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ও আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের রায়পুর, ধরঞ্জী, যোগাইপুর, বাগুয়ান, পাড়ইল, সমসাবাদ ও রামনগর মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ছিলেন হাজারো কৃষক। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে থাকত। ফলে সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারতেন না কৃষকরা। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করায় এখন ওই মাঠগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠের আশপাশের বিভিন্ন কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশনের পথ কতিপয় ব্যক্তি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কোথাও আবার কচুরিপানা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বর্ষা মৌসুমে মাঠের পানি বের হতে না পেরে দিনের পর দিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ইরি-বোরো মৌসুমেও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি জমে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটত।এ অবস্থায় ধরঞ্জী ও আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কালভার্ট ও পানি চলাচলের মুখ খুলে দেওয়া হয়। এতে দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় কৃষকরা এবার আমন ধান রোপণ করতে পেরে আনন্দিত।সমসাবাদ গ্রামের কৃষক মাসুম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে আমরা সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারতাম না। 

আরও  পড়ুন, বেজুরা সেতু এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রাক সিএনজির ওপর উঠে নিহত ২

এবার পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা হওয়ায় ধান রোপণ করতে পেরে আমরা খুব খুশি।”কৃষক নুরুল ইসলাম (জামিল) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার করায় এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।”কৃষক নুর আলম হাবিল বলেন, “পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় কৃষকদের জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় জমিগুলো চাষের আওতায় এসেছে।”কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই মাঠের সরকারি খালটি সংস্কারের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। তাহলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।”ধরঞ্জী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “কৃষকদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে তাদের সঙ্গে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। কৃষকরা যেন নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করে যাব।”আয়মারসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিল্টন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল করা হয়েছে। তবে এটি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নালা খনন বা প্রয়োজনীয় স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা দরকার।”কৃষকরা জানান, বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার হওয়ায় মাঠের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের নালা খনন ও ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিষয় : জলাবদ্ধতা কৃষক মুখে হাসি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


পাঁচবিবিতে জলাবদ্ধতার অবসান, কৃষকদের মুখে হাসি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ও আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের রায়পুর, ধরঞ্জী, যোগাইপুর, বাগুয়ান, পাড়ইল, সমসাবাদ ও রামনগর মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ছিলেন হাজারো কৃষক। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে থাকত। ফলে সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারতেন না কৃষকরা। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করায় এখন ওই মাঠগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠের আশপাশের বিভিন্ন কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশনের পথ কতিপয় ব্যক্তি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কোথাও আবার কচুরিপানা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বর্ষা মৌসুমে মাঠের পানি বের হতে না পেরে দিনের পর দিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ইরি-বোরো মৌসুমেও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি জমে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটত।এ অবস্থায় ধরঞ্জী ও আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কালভার্ট ও পানি চলাচলের মুখ খুলে দেওয়া হয়। এতে দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় কৃষকরা এবার আমন ধান রোপণ করতে পেরে আনন্দিত।সমসাবাদ গ্রামের কৃষক মাসুম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে আমরা সময়মতো আমন ধান রোপণ করতে পারতাম না। 

আরও  পড়ুন, বেজুরা সেতু এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রাক সিএনজির ওপর উঠে নিহত ২

এবার পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা হওয়ায় ধান রোপণ করতে পেরে আমরা খুব খুশি।”কৃষক নুরুল ইসলাম (জামিল) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার করায় এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।”কৃষক নুর আলম হাবিল বলেন, “পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় কৃষকদের জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় জমিগুলো চাষের আওতায় এসেছে।”কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই মাঠের সরকারি খালটি সংস্কারের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। তাহলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।”ধরঞ্জী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “কৃষকদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে তাদের সঙ্গে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। কৃষকরা যেন নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করে যাব।”আয়মারসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিল্টন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল করা হয়েছে। তবে এটি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য নালা খনন বা প্রয়োজনীয় স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা দরকার।”কৃষকরা জানান, বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার হওয়ায় মাঠের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের নালা খনন ও ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত