চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশের ৭ নম্বর বাস পার্কিং এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার খুচরা বেচাকেনা এবং মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহনকেন্দ্রের পাশে মাদক কেনাবেচার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে ট্রেনযাত্রী, পথচারী, পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগে মরিয়ম, তার স্বামী আব্দুল্লাহ প্রকাশ মোল্লা এবং মরিয়মের মা নাসিমার নাম এসেছে। তাদের দাবি, ওই তিনজনকে ঘিরে পার্কিং এলাকায় মাদক বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের কোনো একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়লে কিংবা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে অন্য কেউ কথিত কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফলে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার কর্মকাণ্ড, নাকি এর পেছনে বড় কোনো সরবরাহকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী চক্র রয়েছে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কিছুদিন আগে ৭ নম্বর পার্কিং এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মরিয়মকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা আটক করেছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। জামিনে মুক্তির পর তাকে আবারও ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে এবং তিনি মাদক বিক্রিতে জড়িত এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
আরও পড়ুন, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে সাতক্ষীরায় র্যালি-আলোচনা সভা
প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে নাসিমাকে ইয়াবা সম্পর্কে মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, সময় ও বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে আব্দুল্লাহ প্রকাশ মোল্লার ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কোনো কথিত বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়লে অল্প সময়ের মধ্যে অন্য ব্যক্তিকে সেখানে দেখা যায়। এমন অভিযোগ সত্য হলে মাদকের সরবরাহ, মজুত, বিক্রির অর্থ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অস্থায়ী ও টংঘর গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার কয়েকটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায় বলে তাদের দাবি। এসব স্থাপনা কার অনুমতিতে নির্মিত হয়েছে এবং এগুলোর বৈধতা কী—তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ৭ নম্বর পার্কিং থেকে অন্য এলাকাতেও মাদক সরবরাহ করা হতে পারে। তাই শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহপথ, মজুতস্থান, অর্থদাতা ও কথিত নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করার দাবি উঠেছে।এদিকে বিষয়টি জানার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিআরএম মুস্তাফিজুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠান বলে জানা গেছে। পরে রেলওয়ের ভূমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মানজুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ঢাকায় প্রশিক্ষণে রয়েছেন বলে জানান।
বিষয় : ইয়াবার বাজার জামাই-বউ-শাশুড়ি

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশের ৭ নম্বর বাস পার্কিং এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার খুচরা বেচাকেনা এবং মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহনকেন্দ্রের পাশে মাদক কেনাবেচার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে ট্রেনযাত্রী, পথচারী, পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগে মরিয়ম, তার স্বামী আব্দুল্লাহ প্রকাশ মোল্লা এবং মরিয়মের মা নাসিমার নাম এসেছে। তাদের দাবি, ওই তিনজনকে ঘিরে পার্কিং এলাকায় মাদক বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের কোনো একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়লে কিংবা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে অন্য কেউ কথিত কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফলে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার কর্মকাণ্ড, নাকি এর পেছনে বড় কোনো সরবরাহকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী চক্র রয়েছে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কিছুদিন আগে ৭ নম্বর পার্কিং এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মরিয়মকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা আটক করেছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। জামিনে মুক্তির পর তাকে আবারও ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে এবং তিনি মাদক বিক্রিতে জড়িত এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
আরও পড়ুন, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে সাতক্ষীরায় র্যালি-আলোচনা সভা
প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে নাসিমাকে ইয়াবা সম্পর্কে মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, সময় ও বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে আব্দুল্লাহ প্রকাশ মোল্লার ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কোনো কথিত বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়লে অল্প সময়ের মধ্যে অন্য ব্যক্তিকে সেখানে দেখা যায়। এমন অভিযোগ সত্য হলে মাদকের সরবরাহ, মজুত, বিক্রির অর্থ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অস্থায়ী ও টংঘর গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার কয়েকটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায় বলে তাদের দাবি। এসব স্থাপনা কার অনুমতিতে নির্মিত হয়েছে এবং এগুলোর বৈধতা কী—তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ৭ নম্বর পার্কিং থেকে অন্য এলাকাতেও মাদক সরবরাহ করা হতে পারে। তাই শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহপথ, মজুতস্থান, অর্থদাতা ও কথিত নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করার দাবি উঠেছে।এদিকে বিষয়টি জানার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিআরএম মুস্তাফিজুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠান বলে জানা গেছে। পরে রেলওয়ের ভূমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মানজুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ঢাকায় প্রশিক্ষণে রয়েছেন বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন