চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।সোমবার (২০ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণই হবে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য। সরকারি সম্পদ ও জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাহবুবের রহমান শামীম।সভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলা পরিষদকে আরও জনমুখী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান। অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।প্রশাসক বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি জানান, সবাই যদি সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন, তবে জেলা পরিষদের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।তিনি আরও বলেন, রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আরও কাছে যেতে শিখিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যা,
আরও পড়ু, পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় বন্যার শঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও সড়ক
চাহিদা ও উন্নয়ন-প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্বে এলেও প্রশাসনিক কাজে তাঁদের অভিজ্ঞতাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ কিংবা প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।জেলা পরিষদের সীমিত বাজেটের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং জনগণের আস্থা অর্জনই হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।পরিচিতি সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাত, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. এস এম খালেদ উদ্দীন জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছ উদ্দীন ভূঞাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় : দুর্নীতি নবনিযুক্ত জিরো টলারেন্স

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।সোমবার (২০ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণই হবে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য। সরকারি সম্পদ ও জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাহবুবের রহমান শামীম।সভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলা পরিষদকে আরও জনমুখী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান। অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।প্রশাসক বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি জানান, সবাই যদি সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন, তবে জেলা পরিষদের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।তিনি আরও বলেন, রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আরও কাছে যেতে শিখিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যা,
আরও পড়ু, পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় বন্যার শঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও সড়ক
চাহিদা ও উন্নয়ন-প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্বে এলেও প্রশাসনিক কাজে তাঁদের অভিজ্ঞতাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ কিংবা প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।জেলা পরিষদের সীমিত বাজেটের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং জনগণের আস্থা অর্জনই হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।পরিচিতি সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাত, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. এস এম খালেদ উদ্দীন জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছ উদ্দীন ভূঞাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন