দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে ঢোকানোর চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে ঢোকানোর চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

লামায় আশিকা এনজিও কর্তৃক পাহাড়ধস ও বন্যাকবলিত ৫০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

লামায় আশিকা এনজিও কর্তৃক পাহাড়ধস ও বন্যাকবলিত ৫০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

কসবায় হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারের দাবীতে ব্যাংকার্স ফোরাম ও ব্যাংকার্স  মানববন্ধন

কসবায় হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারের দাবীতে ব্যাংকার্স ফোরাম ও ব্যাংকার্স মানববন্ধন

অপরাধ দমন, পেশাদারিত্ব ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা

অপরাধ দমন, পেশাদারিত্ব ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা

সোনারগাঁয়ে নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন এডহক কমিটি গঠন, সভাপতি রাশেদুল ইসলাম

সোনারগাঁয়ে নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন এডহক কমিটি গঠন, সভাপতি রাশেদুল ইসলাম

কৃষক বঞ্চনার অভিযোগ: খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে ইউএনওর নির্দেশ

কৃষক বঞ্চনার অভিযোগ: খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে ইউএনওর নির্দেশ

গঙ্গাচড়ায় জ্ঞানগৃহ আইডিয়াল স্কুলে ফল উৎসব, দেশি ফলেই বেশি গুরুত্ব

গঙ্গাচড়ায় জ্ঞানগৃহ আইডিয়াল স্কুলে ফল উৎসব, দেশি ফলেই বেশি গুরুত্ব

গভীর সাগরে ট্রলারডুবি: তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার এক জেলে, এখনও নিখোঁজ ৫

গভীর সাগরে ট্রলারডুবি: তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার এক জেলে, এখনও নিখোঁজ ৫

মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, ১১ বছরের শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড়

মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, ১১ বছরের শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড়
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, ১১ বছরের শিশুর মৃত্যু

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও চিকিৎসার নামে গাফিলতির কারণে মোঃ মোরসালিন (১১) নামের এক শিশুর অকাল মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় (০৬ জুলাই, ২০২৬) ভুক্তভোগী শিশুর ফুফাতো ভাই মিঠাপুকুর থানায় চারজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) জনাব নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ রানু বেগম। তারা সবাই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই আনুমানিক রাত ২ টার দিকে শিশু মোরসালিনের তীব্র পেটব্যথা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । অভিযোগ রয়েছে, ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও ১ নম্বর বিবাদী ডা. কাওছার হাসপাতালের ডিউটি রুমে অবস্থান করা সত্ত্বেও একবারের জন্যও রোগীকে সশরীরে পরীক্ষা করতে আসেননি।শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা বারবার ডিউটি স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন ও রানু বেগমের কাছে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার আকুতি-মিনতি করলেও তারা অমানবিক আচরণ করেন এবং ডাক্তারকে রোগীর সংকটপূর্ণ অবস্থার কথা জানাননি। 

আরও পড়ুন, টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানি, পাহাড়ধস-বন্যায় চরম দুর্ভোগ

পরবর্তীতে স্বজনরা জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমো (SACMO) নাহিদের কাছে গিয়ে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনিও চরম উদাসীনতা দেখিয়ে রোগীকে দেখতে যেতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সকাল আনুমানিক ৭ টায় রোগীর মা উপায় না দেখে নিজে ডাক্তারখানায় গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনেন। ডা. কাউছার রোগীর শয্যাপাশে এসে পরীক্ষা করে জানান যে, শিশুটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরতদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি দায় থেকে বাঁচতে সকাল আনুমানিক ০৭:১৯ টায় (মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর) মৃত রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার একটি ভুয়া ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ আজাদ মিয়া হাসপাতালে এসে নিশ্চিত করেন যে, তিনি পৌঁছানোর অনেক পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছিল। বাদী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং উক্ত সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলেই বিবাদীদের এই চরম গাফিলতি ও অপরাধমূলক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। তিনি দণ্ডবিধির ৩০৪-এ/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা (FIR) রেকর্ড করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিষয় : অভিযোগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শিশুর মৃত্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, ১১ বছরের শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও চিকিৎসার নামে গাফিলতির কারণে মোঃ মোরসালিন (১১) নামের এক শিশুর অকাল মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় (০৬ জুলাই, ২০২৬) ভুক্তভোগী শিশুর ফুফাতো ভাই মিঠাপুকুর থানায় চারজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) জনাব নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ রানু বেগম। তারা সবাই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই আনুমানিক রাত ২ টার দিকে শিশু মোরসালিনের তীব্র পেটব্যথা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । অভিযোগ রয়েছে, ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও ১ নম্বর বিবাদী ডা. কাওছার হাসপাতালের ডিউটি রুমে অবস্থান করা সত্ত্বেও একবারের জন্যও রোগীকে সশরীরে পরীক্ষা করতে আসেননি।শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা বারবার ডিউটি স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন ও রানু বেগমের কাছে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার আকুতি-মিনতি করলেও তারা অমানবিক আচরণ করেন এবং ডাক্তারকে রোগীর সংকটপূর্ণ অবস্থার কথা জানাননি। 

আরও পড়ুন, টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানি, পাহাড়ধস-বন্যায় চরম দুর্ভোগ

পরবর্তীতে স্বজনরা জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমো (SACMO) নাহিদের কাছে গিয়ে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনিও চরম উদাসীনতা দেখিয়ে রোগীকে দেখতে যেতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সকাল আনুমানিক ৭ টায় রোগীর মা উপায় না দেখে নিজে ডাক্তারখানায় গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনেন। ডা. কাউছার রোগীর শয্যাপাশে এসে পরীক্ষা করে জানান যে, শিশুটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরতদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি দায় থেকে বাঁচতে সকাল আনুমানিক ০৭:১৯ টায় (মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর) মৃত রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার একটি ভুয়া ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ আজাদ মিয়া হাসপাতালে এসে নিশ্চিত করেন যে, তিনি পৌঁছানোর অনেক পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছিল। বাদী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং উক্ত সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলেই বিবাদীদের এই চরম গাফিলতি ও অপরাধমূলক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। তিনি দণ্ডবিধির ৩০৪-এ/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা (FIR) রেকর্ড করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত