প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহেলার অভিযোগ, ১১ বছরের শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড়
মোত্তাছিন বিল্লাহ , মিঠাপুকুর (রংপুর), প্রতিনিধি ||
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও চিকিৎসার নামে গাফিলতির কারণে মোঃ মোরসালিন (১১) নামের এক শিশুর অকাল মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় (০৬ জুলাই, ২০২৬) ভুক্তভোগী শিশুর ফুফাতো ভাই মিঠাপুকুর থানায় চারজন চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) জনাব নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ রানু বেগম। তারা সবাই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই আনুমানিক রাত ২ টার দিকে শিশু মোরসালিনের তীব্র পেটব্যথা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । অভিযোগ রয়েছে, ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও ১ নম্বর বিবাদী ডা. কাওছার হাসপাতালের ডিউটি রুমে অবস্থান করা সত্ত্বেও একবারের জন্যও রোগীকে সশরীরে পরীক্ষা করতে আসেননি।শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা বারবার ডিউটি স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন ও রানু বেগমের কাছে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার আকুতি-মিনতি করলেও তারা অমানবিক আচরণ করেন এবং ডাক্তারকে রোগীর সংকটপূর্ণ অবস্থার কথা জানাননি। আরও পড়ুন, টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানি, পাহাড়ধস-বন্যায় চরম দুর্ভোগপরবর্তীতে স্বজনরা জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমো (SACMO) নাহিদের কাছে গিয়ে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনিও চরম উদাসীনতা দেখিয়ে রোগীকে দেখতে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
অবশেষে সকাল আনুমানিক ৭ টায় রোগীর মা উপায় না দেখে নিজে ডাক্তারখানায় গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনেন। ডা. কাউছার রোগীর শয্যাপাশে এসে পরীক্ষা করে জানান যে, শিশুটি ইতিমধ্যে মারা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরতদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি দায় থেকে বাঁচতে সকাল আনুমানিক ০৭:১৯ টায় (মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর) মৃত রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার একটি ভুয়া ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ আজাদ মিয়া হাসপাতালে এসে নিশ্চিত করেন যে, তিনি পৌঁছানোর অনেক পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছিল।
বাদী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং উক্ত সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলেই বিবাদীদের এই চরম গাফিলতি ও অপরাধমূলক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। তিনি দণ্ডবিধির ৩০৪-এ/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা (FIR) রেকর্ড করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত