পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র শিশু সন্তান। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সোমবার সন্ধ্যায় মিঠামইন অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু সংলগ্ন এলাকায় চালবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনজন। নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহিষারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৭), তাঁর স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছেলে মুহাম্মদ আয়ান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মনির হোসেন কিশোরগঞ্জ শহরে দুটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন। তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ও সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন, গাজীপুরের সব শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা, দুপুর থেকে তীব্র যানজটের শঙ্কা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন মনির হোসেন। সোমবার বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইনের পথে ভাতশালা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী এবং শিশু সন্তান। নিহত মনির হোসেনের প্রতিবেশী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল মনির। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। এলাকাজুড়ে এখন শুধু কান্না আর শোকের পরিবেশ।”
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শহীদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন পিকআপটি আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে চালককে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে অলওয়েদার সড়কে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই থেমে গেল সড়কের নির্মমতায়। ঈদের আগে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকাহত পুরো মিঠামইনবাসী।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র শিশু সন্তান। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সোমবার সন্ধ্যায় মিঠামইন অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু সংলগ্ন এলাকায় চালবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনজন। নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহিষারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৭), তাঁর স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছেলে মুহাম্মদ আয়ান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মনির হোসেন কিশোরগঞ্জ শহরে দুটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন। তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ও সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন, গাজীপুরের সব শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা, দুপুর থেকে তীব্র যানজটের শঙ্কা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন মনির হোসেন। সোমবার বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইনের পথে ভাতশালা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চালবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী এবং শিশু সন্তান। নিহত মনির হোসেনের প্রতিবেশী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল মনির। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। এলাকাজুড়ে এখন শুধু কান্না আর শোকের পরিবেশ।”
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শহীদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন পিকআপটি আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে চালককে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে অলওয়েদার সড়কে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই থেমে গেল সড়কের নির্মমতায়। ঈদের আগে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকাহত পুরো মিঠামইনবাসী।

আপনার মতামত লিখুন