দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

বড়বিল ইউনিয়নে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও এক মাসের ওষুধ প্রদান

বড়বিল ইউনিয়নে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও এক মাসের ওষুধ প্রদান

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে খাগড়াছড়িতে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে খাগড়াছড়িতে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব

প্রকৃতির নির্মম ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ প্রাণহানিসহ দুর্যোগের মুখে প্রায় ৯ লাখ মানুষ

প্রকৃতির নির্মম ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ প্রাণহানিসহ দুর্যোগের মুখে প্রায় ৯ লাখ মানুষ

চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে হামলা: নকল করতে না পেরে ভাঙচুর, মামলা

চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে হামলা: নকল করতে না পেরে ভাঙচুর, মামলা

৫ দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, স্বস্তি ফিরল রেলপথে

৫ দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, স্বস্তি ফিরল রেলপথে

অনলাইনে আম বেচে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা বদলগাছীর মোস্তাকিম

অনলাইনে আম বেচে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা বদলগাছীর মোস্তাকিম

মিঠাপুকুরে কলেজছাত্রী খুশির রহস্যমৃত্যু, হত্যা ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য

মিঠাপুকুরে কলেজছাত্রী খুশির রহস্যমৃত্যু, হত্যা ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে  নাজিমুদ্দিন বাবু  ফকির নামের এক যুবকের মৃত্যু

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাজিমুদ্দিন বাবু ফকির নামের এক যুবকের মৃত্যু

ঈদ সামনে, হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর কিশোরগঞ্জের কামারপট্টি: রাতভর আগুনে পুড়ছে লোহা, বাড়ছে দা-বটি-ছুরির চাহিদা

ঈদ সামনে, হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর কিশোরগঞ্জের কামারপট্টি: রাতভর আগুনে পুড়ছে লোহা, বাড়ছে দা-বটি-ছুরির চাহিদা
ঈদ সামনে, হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর কিশোরগঞ্জের কামারপট্টি: রাতভর আগুনে পুড়ছে লোহা, বাড়ছে দা-বটি-ছুরির চাহিদা

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কামারপট্টিগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন যেন দম ফেলারও সুযোগ নেই কামার শিল্পীদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের উত্তাপ আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি। কামারদের নিরলস পরিশ্রমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহর ও গ্রামের পুরোনো কামারপাড়াগুলো।

সম্প্রতি সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা, বড় বাজার, আখরা বাজার, টিনপট্টি ও মোরগ মহল এলাকার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই চলছে কর্মব্যস্ততার চরম দৃশ্য। কোথাও আগুনে লাল হয়ে ওঠা লোহা পেটানো হচ্ছে ভারি হাতুড়ির আঘাতে, কোথাও আবার হাপরের বাতাসে আরও প্রজ্বলিত করা হচ্ছে কয়লার আগুন। কেউ পুরনো ছুরি ও চাপাতিতে শান দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন সরঞ্জাম তৈরিতে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ

চারদিকে শুধু হাতুড়ির টুংটাং শব্দ, হাপরের ফোঁসফাঁস আর আগুনের লেলিহান শিখা। পুরো এলাকা যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। কামার শিল্পীরা জানান, ঈদুল আজহা তাদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। বছরের বাকি সময়টাতে আয় কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তারা কিছুটা স্বস্তি পান। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা টিকে থাকে সারা বছরের সংসার ও ব্যবসা।বড় বাজার এলাকার কামার শিল্পী মোবারক হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রচুর কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে দুইজন শ্রমিক কাজ করতো, এখন সেখানে পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক কাজ করছে। মানুষের চাপও অনেক বেড়েছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, জবাইয়ের ছুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন কামারপট্টিতে দেখা যায়, দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের দা, ছুরি, বটি ও চাপাতি। অনেকেই অগ্রিম অর্ডার দিয়ে তৈরি করাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আবার কেউ পুরনো অস্ত্র নতুন করে শান দিতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে আজ ঈদ

কোরবানির সময় সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারেও বসেছে অস্থায়ী দা-বটি ও ছুরির দোকান। প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব দোকানে ভিড় করছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে কিংবা পুরনো দা-ছুরি শান দিতে। তবে ঈদ মৌসুমে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতার মধ্যেই রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, বছরের এই সময়টায় বাড়তি দাম নেওয়া হয়। বিশেষ করে ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতেও ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সোনারগাঁয়ের ২৩ গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন

পুরান থানা এলাকার ক্রেতা আলাল হোসেন বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে সবাই মিলে কোরবানি করি। গরুর মাংস নিজেরাই কাটাকাটি করি। তাই কিছু চাপাতি, দা ও চাকু শান দিতে এবং নতুন কয়েকটি কিনতে এসেছি। তবে এবার আগের তুলনায় দাম একটু বেশি।” এদিকে কামার শিল্পীরা বলছেন, লোহা, কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণেই পণ্যের দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও আগের তুলনায় বেড়েছে।

মোরগ মহল এলাকার কামার শিল্পী খাইরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমিকদের মজুরিও বেশি দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম রাখতে।” তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প এখন ধীরে ধীরে হুমকির মুখে পড়ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিষয় : কিশোরগঞ্জ ঈদুল আজহা কামার শিল্পী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


ঈদ সামনে, হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর কিশোরগঞ্জের কামারপট্টি: রাতভর আগুনে পুড়ছে লোহা, বাড়ছে দা-বটি-ছুরির চাহিদা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কামারপট্টিগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন যেন দম ফেলারও সুযোগ নেই কামার শিল্পীদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের উত্তাপ আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি। কামারদের নিরলস পরিশ্রমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহর ও গ্রামের পুরোনো কামারপাড়াগুলো।

সম্প্রতি সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা, বড় বাজার, আখরা বাজার, টিনপট্টি ও মোরগ মহল এলাকার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই চলছে কর্মব্যস্ততার চরম দৃশ্য। কোথাও আগুনে লাল হয়ে ওঠা লোহা পেটানো হচ্ছে ভারি হাতুড়ির আঘাতে, কোথাও আবার হাপরের বাতাসে আরও প্রজ্বলিত করা হচ্ছে কয়লার আগুন। কেউ পুরনো ছুরি ও চাপাতিতে শান দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন সরঞ্জাম তৈরিতে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ

চারদিকে শুধু হাতুড়ির টুংটাং শব্দ, হাপরের ফোঁসফাঁস আর আগুনের লেলিহান শিখা। পুরো এলাকা যেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। কামার শিল্পীরা জানান, ঈদুল আজহা তাদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। বছরের বাকি সময়টাতে আয় কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তারা কিছুটা স্বস্তি পান। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা টিকে থাকে সারা বছরের সংসার ও ব্যবসা।বড় বাজার এলাকার কামার শিল্পী মোবারক হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রচুর কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যাচ্ছে না। আগে যেখানে দুইজন শ্রমিক কাজ করতো, এখন সেখানে পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক কাজ করছে। মানুষের চাপও অনেক বেড়েছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, জবাইয়ের ছুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন কামারপট্টিতে দেখা যায়, দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের দা, ছুরি, বটি ও চাপাতি। অনেকেই অগ্রিম অর্ডার দিয়ে তৈরি করাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আবার কেউ পুরনো অস্ত্র নতুন করে শান দিতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে আজ ঈদ

কোরবানির সময় সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারেও বসেছে অস্থায়ী দা-বটি ও ছুরির দোকান। প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব দোকানে ভিড় করছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে কিংবা পুরনো দা-ছুরি শান দিতে। তবে ঈদ মৌসুমে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতার মধ্যেই রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, বছরের এই সময়টায় বাড়তি দাম নেওয়া হয়। বিশেষ করে ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতেও ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সোনারগাঁয়ের ২৩ গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন

পুরান থানা এলাকার ক্রেতা আলাল হোসেন বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে সবাই মিলে কোরবানি করি। গরুর মাংস নিজেরাই কাটাকাটি করি। তাই কিছু চাপাতি, দা ও চাকু শান দিতে এবং নতুন কয়েকটি কিনতে এসেছি। তবে এবার আগের তুলনায় দাম একটু বেশি।” এদিকে কামার শিল্পীরা বলছেন, লোহা, কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণেই পণ্যের দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও আগের তুলনায় বেড়েছে।

মোরগ মহল এলাকার কামার শিল্পী খাইরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমিকদের মজুরিও বেশি দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম রাখতে।” তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প এখন ধীরে ধীরে হুমকির মুখে পড়ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত