দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি
হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ৫৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটে এসব রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হাম রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সদরসহ ৫টি সরকারি হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩ মাসে ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া রোগীদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়। এছাড়া রামগঞ্জে হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। 

আরো পড়ুন , ঈশ্বরদীতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে'পার্টনার কংগ্রেস' অনুষ্ঠিত

বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সদরে হাসপাতালে ৫৮ জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, রায়পুরে ৭ জনও রামগতিতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজন রোগীরও হাম শনাক্ত হয়নি। সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা হলেও প্রায় ৩০০-৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে সবসময়। বর্তমানে অতি সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন রোগীই ভর্তি রয়েছে। শয্যা সংকটে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে পাতানো বিছানায়। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর ৫-৭ দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হাম রোগে সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়। 

আরো পড়ুন, ক্রেতা সেজে র‌্যাবের অভিযান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৬৮ রাউন্ড গুলিসহ ৫ আটক

শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, এ মুহূর্তে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে, তারা মোটামুটি আতঙ্ক মুক্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে।লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম চলছে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ আমাদের ৪টি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনেরও হাম শনাক্ত হয়নি।

বিষয় : চিকিৎসা সংকট হাম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ৫৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটে এসব রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হাম রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সদরসহ ৫টি সরকারি হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩ মাসে ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া রোগীদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়। এছাড়া রামগঞ্জে হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। 

আরো পড়ুন , ঈশ্বরদীতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে'পার্টনার কংগ্রেস' অনুষ্ঠিত

বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সদরে হাসপাতালে ৫৮ জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, রায়পুরে ৭ জনও রামগতিতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজন রোগীরও হাম শনাক্ত হয়নি। সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা হলেও প্রায় ৩০০-৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে সবসময়। বর্তমানে অতি সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন রোগীই ভর্তি রয়েছে। শয্যা সংকটে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে পাতানো বিছানায়। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর ৫-৭ দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হাম রোগে সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়। 

আরো পড়ুন, ক্রেতা সেজে র‌্যাবের অভিযান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৬৮ রাউন্ড গুলিসহ ৫ আটক

শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, এ মুহূর্তে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে, তারা মোটামুটি আতঙ্ক মুক্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে।লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম চলছে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ আমাদের ৪টি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনেরও হাম শনাক্ত হয়নি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত