দীর্ঘদিনের মানসিক আঘাত ও পিটিএসডি বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘ইবোগেইন’ নামের একটি বিতর্কিত উপাদান। আফ্রিকার একটি প্রাকৃতিক গাছের মূল থেকে পাওয়া এই শক্তিশালী উপাদান বহু দেশে নিষিদ্ধ হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় এটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।আরও পড়ুন, রাতের কিছু অভ্যাসেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনিসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ বাহিনীর এক চিকিৎসকসহ কয়েক ডজন যুদ্ধফেরত সেনার ওপর পরীক্ষামূলক চিকিৎসা চালানো হয়। মেক্সিকোর একটি ক্লিনিকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের ইবোগেইন দেওয়া হয়। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় তারা নিজেদের অতীত জীবনের গভীর স্মৃতি, হারানো মানুষ এবং যুদ্ধকালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। অনেকেই এটিকে মানসিকভাবে অত্যন্ত তীব্র হলেও অর্থবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।আরও পড়ুন, দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যুগবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, একবারের চিকিৎসার পর অনেক অংশগ্রহণকারীর পিটিএসডি, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে এই উন্নতি এক মাস পরেও স্থায়ী ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন, ইবোগেইন কীভাবে কাজ করে। একদল গবেষকের ধারণা, এটি মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ ও রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনে। অন্যদের মতে, চিকিৎসার সময় তৈরি হওয়া গভীর আত্ম-পর্যালোচনার অভিজ্ঞতা রোগীদের মানসিক পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।আরও পড়ুন, গরমে বাড়ছে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ‘সুপার ফাঙ্গাস’ নিয়ে সতর্কতাযদিও প্রাচীন আফ্রিকান আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ইবোগেইন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি এখনও পুরোপুরি স্বীকৃত নয়। কারণ, এর ব্যবহার হৃদযন্ত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিটিএসডি রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খোঁজার ক্ষেত্রে এটি সম্ভাবনাময় হলেও নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।