দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ফুলবাড়িয়া লাহেড়ীপাড়া নারাবিলের খাল দূষণে জনদুর্ভোগ চরমে, পুনঃখননের জোর দাবি

ফুলবাড়িয়া লাহেড়ীপাড়া নারাবিলের খাল দূষণে জনদুর্ভোগ চরমে, পুনঃখননের জোর দাবি
ফুলবাড়িয়া লাহেড়ীপাড়া নারাবিলের খাল দূষণে জনদুর্ভোগ চরমে, পুনঃখননের জোর দাবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার লাহেড়ীপাড়া এলাকার নারাবিলের খালটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। একসময় পানি প্রবাহ, সেচ ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই খালগুলো বর্তমানে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে জনজীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে।

পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানাজুড়ে নারাবিলের খালটি প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখালিয়া নদে গিয়ে মিশেছে। লাহেড়ীপাড়া খালটি ময়মনসিংহ-ফুলবাড়িয়া সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে মুক্তাগাছা সড়কে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তার নিজ হাতে খালগুলো পুনঃখনন করেছিলেন। তখন খাল দিয়ে সারা বছর পানির স্রোত প্রবাহিত হতো এবং প্রায় ৫০০ একর জমিতে সহজে সেচ দেওয়া সম্ভব ছিল।

আরও পড়ুন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিন্তু কালের বিবর্তনে খালগুলো এখন মৃতপ্রায়। খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ বিত্তবান ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসতবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালের ভেতরে। এছাড়া মুরগির খামারের বর্জ্য, টয়লেটের পাইপলাইন এবং বিভিন্ন ড্রেনের সংযোগ সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পানি দূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

খালের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও একটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেকেই নাকে কাপড় বেঁধে চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাল থেকে ছড়ানো দূষিত বায়ুতে বিভিন্ন রোগজীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

লাহেড়ীপাড়া খালপাড়ঘেষে সড়কগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর ছিদ্দিক (বাক্কা) বলেন, ুএই খালের দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত খালটি পুনঃখনন করে পরিবেশ ঠিক করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর দাবি, খাল দুটি দ্রুত পুনঃখননের করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং খালে যেন আর কোনো ময়লা-আবর্জনা না ফেলা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ের সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করারও জোর দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক শেখ তাকি তাজওয়ার বলেন, খালগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয় : ফুলবাড়িয়া জনদুর্ভোগ পুনঃখনন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ফুলবাড়িয়া লাহেড়ীপাড়া নারাবিলের খাল দূষণে জনদুর্ভোগ চরমে, পুনঃখননের জোর দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার লাহেড়ীপাড়া এলাকার নারাবিলের খালটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। একসময় পানি প্রবাহ, সেচ ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই খালগুলো বর্তমানে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে জনজীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে।

পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানাজুড়ে নারাবিলের খালটি প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখালিয়া নদে গিয়ে মিশেছে। লাহেড়ীপাড়া খালটি ময়মনসিংহ-ফুলবাড়িয়া সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে মুক্তাগাছা সড়কে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তার নিজ হাতে খালগুলো পুনঃখনন করেছিলেন। তখন খাল দিয়ে সারা বছর পানির স্রোত প্রবাহিত হতো এবং প্রায় ৫০০ একর জমিতে সহজে সেচ দেওয়া সম্ভব ছিল।

আরও পড়ুন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিন্তু কালের বিবর্তনে খালগুলো এখন মৃতপ্রায়। খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ঘনবসতিপূর্ণ বিত্তবান ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসতবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালের ভেতরে। এছাড়া মুরগির খামারের বর্জ্য, টয়লেটের পাইপলাইন এবং বিভিন্ন ড্রেনের সংযোগ সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পানি দূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

খালের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও একটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেকেই নাকে কাপড় বেঁধে চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাল থেকে ছড়ানো দূষিত বায়ুতে বিভিন্ন রোগজীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন, জনপ্রশাসনের পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

লাহেড়ীপাড়া খালপাড়ঘেষে সড়কগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর ছিদ্দিক (বাক্কা) বলেন, ুএই খালের দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত খালটি পুনঃখনন করে পরিবেশ ঠিক করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর দাবি, খাল দুটি দ্রুত পুনঃখননের করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং খালে যেন আর কোনো ময়লা-আবর্জনা না ফেলা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ের সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করারও জোর দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক শেখ তাকি তাজওয়ার বলেন, খালগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত