কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সৈকত এলাকায় চলা অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, আবাসিক হোটেল এবং বিচ দখলকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এসব স্থানে পর্যটকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও সময় সময় উঠে আসে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র বলছে, এসব অনিয়ম বন্ধ করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে সৈকতের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং কয়েকটি অনুমোদনহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে। সেই প্রেক্ষাপটেই অভিযানের নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে টিকটকার হিসেবে পরিচিত লায়লা ও জিনিয়া নামের দুই নারীকে দেখা যায়। ভিডিওটিতে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে লায়লা নামে এক নারী আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওই ভিডিও ধারণ করানো হয়েছিল। তিনি জানান, পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাকে ওই বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, লায়লাকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি তাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। পর্যটনের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় সৈকত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, দালাল চক্র এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে অভিযোগে জানা যায়, আর এসব সিন্ডিকেট চক্রকে নিয়ন্ত্রন করছেন জসিম উদ্দিন। আর সেই চক্র ভেঙ্গে দিতে ও সামাজিক ভারসম্য ফিরিয়ে আনতে আপেল মাহমুদের অভিযান কাল হলে দ্বাড়াল।
ফেসবুক ভিডিও লিংক: https://www.facebook.com/share/v/1CBuHS81gY/
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সৈকত এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা বিচের বিভিন্ন অংশ দখল করে সেখানে অননুমোদিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর কক্সবাজারের যুগান্তরের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনের নামও আলোচনায় আসে। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৬-৭ মার্চ তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে যুগান্ত প্রিন্ট ও অনালাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং এই সিন্ডকেট বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি চেষ্টা চায়িয়ে যাছে ও চালাবে। তবে ওই প্রতিবেদনের তথ্য-প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশ কিছু তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ দিগন্তর মত পত্রিকার গোনার সময় নেই বললেন উক্ত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জসিম উদ্দিন।
আরও পড়ুন, ২৬ মার্চে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন শিল্পের সুনাম রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা আরও জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কক্সবাজারে কিছু কথিত সাংবাদিককে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা বা বিরোধ মীমাংসার নামেও অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে যেকোনো ধরনের বিতর্ক বা নেতিবাচক প্রচারণা পর্যটন শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন করা জরুরি। সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পর্যটন শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন না করার জন্যও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযানের পর যেসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সত্য ঘটনা প্রকাশ পেলে একদিকে যেমন বিভ্রান্তি দূর হবে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের সুনামও রক্ষা পাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তারা আরও বলেন, পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে পুলিশের আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ বিভাগের মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, আবাসিক হোটেল ও বিচ দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলে আসছিল। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল পর্যটন এলাকা নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব রাখা। আইজিপি আরও বলেন, অভিযানের সময় কিছু মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা আইন ও প্রশাসনের কাজকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযানের সব কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পর্যটন এলাকা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন, ফরিদপুরে থামছে না ফসলি জমি ধ্বংসের উৎসব
এদিকে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে সৈকত এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, দালাল চক্র ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসার পরই আইন অনুযায়ী ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান পরিচালনা শুরু করে। তিনি বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে অভিযান শুরু হওয়ার পর কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ বা ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তিনি আরো জানান, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বা সরকারি কাজে বাধা দেয়, সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার সুনাম ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়িয়া পাহাড় অনন্তপুরে দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী ফুলের বাগান
অন্যদিকে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি প্রশাসন বা ট্যুরিস্ট পুলিশ আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সেই কার্যক্রমে বাধা দেওয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণসহ আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ প্রচার করা অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে সংশ্লিষ্টদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞের মতে, একদিকে যেমন প্রশাসনের সব পদক্ষেপ আইনের সীমার মধ্যে থাকা প্রয়োজন, অন্যদিকে অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া জরুরি। এতে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি আরও বলেন, পর্যটন এলাকার সুনাম রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইন মেনে চলা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সৈকত এলাকায় চলা অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, আবাসিক হোটেল এবং বিচ দখলকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এসব স্থানে পর্যটকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও সময় সময় উঠে আসে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র বলছে, এসব অনিয়ম বন্ধ করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে সৈকতের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং কয়েকটি অনুমোদনহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে। সেই প্রেক্ষাপটেই অভিযানের নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে টিকটকার হিসেবে পরিচিত লায়লা ও জিনিয়া নামের দুই নারীকে দেখা যায়। ভিডিওটিতে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে লায়লা নামে এক নারী আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওই ভিডিও ধারণ করানো হয়েছিল। তিনি জানান, পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাকে ওই বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, লায়লাকে কেন্দ্র করে অতীতে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি তাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। পর্যটনের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় সৈকত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, দালাল চক্র এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে অভিযোগে জানা যায়, আর এসব সিন্ডিকেট চক্রকে নিয়ন্ত্রন করছেন জসিম উদ্দিন। আর সেই চক্র ভেঙ্গে দিতে ও সামাজিক ভারসম্য ফিরিয়ে আনতে আপেল মাহমুদের অভিযান কাল হলে দ্বাড়াল।
ফেসবুক ভিডিও লিংক: https://www.facebook.com/share/v/1CBuHS81gY/
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সৈকত এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা বিচের বিভিন্ন অংশ দখল করে সেখানে অননুমোদিত ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর কক্সবাজারের যুগান্তরের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনের নামও আলোচনায় আসে। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৬-৭ মার্চ তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে যুগান্ত প্রিন্ট ও অনালাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং এই সিন্ডকেট বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি চেষ্টা চায়িয়ে যাছে ও চালাবে। তবে ওই প্রতিবেদনের তথ্য-প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশ কিছু তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ দিগন্তর মত পত্রিকার গোনার সময় নেই বললেন উক্ত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জসিম উদ্দিন।
আরও পড়ুন, ২৬ মার্চে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন শিল্পের সুনাম রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা আরও জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কক্সবাজারে কিছু কথিত সাংবাদিককে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা বা বিরোধ মীমাংসার নামেও অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে যেকোনো ধরনের বিতর্ক বা নেতিবাচক প্রচারণা পর্যটন শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন করা জরুরি। সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পর্যটন শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন না করার জন্যও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযানের পর যেসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সত্য ঘটনা প্রকাশ পেলে একদিকে যেমন বিভ্রান্তি দূর হবে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের সুনামও রক্ষা পাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তারা আরও বলেন, পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে পুলিশের আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ বিভাগের মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, আবাসিক হোটেল ও বিচ দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলে আসছিল। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল পর্যটন এলাকা নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব রাখা। আইজিপি আরও বলেন, অভিযানের সময় কিছু মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা আইন ও প্রশাসনের কাজকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযানের সব কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পর্যটন এলাকা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন, ফরিদপুরে থামছে না ফসলি জমি ধ্বংসের উৎসব
এদিকে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে সৈকত এলাকায় কিছু অবৈধ স্থাপনা, অনুমোদনহীন স্পা, দালাল চক্র ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসার পরই আইন অনুযায়ী ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান পরিচালনা শুরু করে। তিনি বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে অভিযান শুরু হওয়ার পর কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ বা ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তিনি আরো জানান, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বা সরকারি কাজে বাধা দেয়, সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার সুনাম ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়িয়া পাহাড় অনন্তপুরে দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী ফুলের বাগান
অন্যদিকে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি প্রশাসন বা ট্যুরিস্ট পুলিশ আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সেই কার্যক্রমে বাধা দেওয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণসহ আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ প্রচার করা অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে সংশ্লিষ্টদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞের মতে, একদিকে যেমন প্রশাসনের সব পদক্ষেপ আইনের সীমার মধ্যে থাকা প্রয়োজন, অন্যদিকে অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া জরুরি। এতে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি আরও বলেন, পর্যটন এলাকার সুনাম রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইন মেনে চলা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন