ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও তা দমনে কোনো কার্যকর ভূমিকার দেখা মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একবার জরিমানা দিয়ে পরদিনই তারা দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রতিদিন প্রশাসনের অভিযান ও অর্থদণ্ডের খবর প্রচার হচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যে স্থানে গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে, আজ সেখানেই আবারও বসানো হয়েছে ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর)। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে ‘ব্যবসায়িক খরচ’ হিসেবে ধরে নিয়ে আগের চেয়ে বেশি হারে মাটি বিক্রি শুরু করছে।
মাটি কাটার ফলে কেবল উর্বর কৃষিজমিই বিলীন হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে আরও বহুমুখী সংকট। রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি: ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ দূষণ: মাটি পরিবহনের সময় বাতাসে ওড়া ধুলোবালিতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি: যত্রতত্র গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় এবং রাস্তায় কাদা-মাটি জমে থাকায় অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? তারা কি এই সিন্ডিকেটকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অক্ষম, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম চলছে?
আরও পড়ুন, মহিলা দলের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা নয়, মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি জলাশয়ে পরিণত হবে এবং খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। জনগণ এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
ফরিদপুর জেলাজুড়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও তা দমনে কোনো কার্যকর ভূমিকার দেখা মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জরিমানা এখন মাটিখেকো ব্যবসায়ীদের কাছে ‘অবৈধ কাজের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একবার জরিমানা দিয়ে পরদিনই তারা দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় মাটি কাটায় লিপ্ত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রতিদিন প্রশাসনের অভিযান ও অর্থদণ্ডের খবর প্রচার হচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যে স্থানে গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে, আজ সেখানেই আবারও বসানো হয়েছে ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর)। ব্যবসায়ীরা জরিমানার অর্থকে ‘ব্যবসায়িক খরচ’ হিসেবে ধরে নিয়ে আগের চেয়ে বেশি হারে মাটি বিক্রি শুরু করছে।
মাটি কাটার ফলে কেবল উর্বর কৃষিজমিই বিলীন হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে আরও বহুমুখী সংকট। রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি: ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিবেশ দূষণ: মাটি পরিবহনের সময় বাতাসে ওড়া ধুলোবালিতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি: যত্রতত্র গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় এবং রাস্তায় কাদা-মাটি জমে থাকায় অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনায় মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—প্রশাসনের কঠোর অবস্থান কি কেবল অর্থদণ্ডেই সীমাবদ্ধ? তারা কি এই সিন্ডিকেটকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অক্ষম, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এই কার্যক্রম চলছে?
আরও পড়ুন, মহিলা দলের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল জরিমানা নয়, মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই জেলার উর্বর ফসলি জমি জলাশয়ে পরিণত হবে এবং খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। জনগণ এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন